আপডেট: জুন ৩০, ২০২৪
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন জীবননগর পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সেকেন্দার আলী মিয়া | ছবি: আপডেট নিউজ বিডি টোয়েন্টিফোর
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান এবং মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সোহরাব হোসেন খাঁনের উপর অতর্কিত হামলার প্রতিবাদ ও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জীবননগর পৌর আওয়ামী লীগ ও জীবননগর চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ আয়োজনে রবিবার (৩০শে জুন ২০২৪) বিকাল ৫টার দিকে উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্যে জীবননগর পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সেকেন্দার আলী মিয়া বলেন, গত শুক্রবার রাত ৮টার সময় মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বৃহত্তর উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন খাঁন দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি শুক্রবার রাত পৌনে ৮ টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে মনোহরপুর গ্রামের আলার মোড় থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। কিছু দূর যাওয়ার পরই অন্য একটি মোটরসাইকেলযোগে দুজন দুর্বৃত্ত পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে পিঠের ডান দিকে কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীতে তাকে ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া গত ২৮ মে সকাল ১০টার সময় উথলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নানকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর জখম করেন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এবং পরে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি এখনও ঢাকা বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
তিনি বলেন, সম্প্রতি জীবননগর উপজেলার আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে। মাদকের আনাগোনা, চুরি, ছিনতাই, ইজিবাইক চুরি, মলম পার্টির দৌরাত্ম্য বহুগুণে বেড়ে গেছে। এছাড়া উথলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নানের উপর হামলাকারীদেরকে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী গত এক মাসেও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পারিনি। এ সমস্ত কারণে জীবননগর উপজেলার জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হতাশা বিরাজ করছে। আমরাও আতঙ্কের মধ্যে থাকি কখন আমাদের উপর হামলা হয়।
তিনি আরও বলেন, মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খাঁন এবং উথলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নানের উপর হামলাকারীদের আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি এবং উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যদি আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয় তাহলে আগামীতে উপজেলার সকল জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সাথে নিয়ে মানববন্ধন, মৌন মিছিল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশসহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এসময় জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি হাফিজুর রহমান, পৌরমেয়র রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈশা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেনুকা আক্তার রিতা, কেডিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল বাসার শিপলু, বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাদের প্রধান, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মোক্তার, উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোবারক সোহেল আহাম্মদ প্রদীপ এবং মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বকুলসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আমিনুর রহমান নয়ন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।