আপডেট: February 7, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক:: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমি এই সিলেটের সন্তান। জামায়াতের আমির হিসেবে নয়, আপনাদের একজন হিসেবেই দাঁড়িয়েছি। আমাদের একবার সুযোগ দিন। আমরা দেশের মালিক হব না, আপনাদের চৌকিদার হব। সবার মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার। শনিবার বিকেলে সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াত ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরে তরুণ প্রজন্ম ও মা-বোনদের স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে। গত ৫৪ বছর ধরে জুলুমের রাজনীতি চলছে। সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে জামায়াত ইসলামী। ৫ আগস্টের পর সুযোগ থাকলেও আমরা জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেইনি। আমরা ক্ষমা করে দিয়েছি। তবে এই দেশে কেউ আর চাঁদাবাজি করতে পারবে না। কোন অফিস আদালতে কারো ঘুষ নেওয়ার সাহস ও সুযোগ হবে না।
তিনি বলেন, ৫৪ বছরে দেশের টাকা লুট হয়েছে। কেউ ফেরেস্তা ছিলেন না। সবাই চুরি করেছেন কেউ কম বা কেউ বেশি। যারা জনগণের টাকা চুরি করেছে আমরা দায়িত্ব পেলে তাদের শান্তি দেবো না। তাদের মুখের ভেতর হাত ঢুকিয়ে পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে আনবো। দুর্নীতি বন্ধ হলে, চুরি বন্ধ হলে উন্নয়নও হবে। আপনারা সবাইকে দেখেছেন। এখন একবার আমাদের সুযোগ দেন। আমরা দেশের মালিক বনবো না। আপনাদের চৌকিদার হবো। যার যা মর্যাদা তা নিশ্চিত করবো।
সিলেট খনিজ সম্পদে ভরপুর উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটের খনিজ সম্পদের হিস্যা সিলেটবাসী পাচ্ছে না। সিলেটের সব এলাকায় এখনও গ্যাস যায়নি। নদীগুলো মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা দায়িত্ব পেলে কেবল নদী খনন নয়, নদীবান্ধব হবে বাংলাদেশ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কৃষকদের কাছে সরঞ্জাম তুলে দেবো। জেলেদের হাতে জাল দেওয়া হবে। জাল যার জলা তার হবে। চা বাগানের শ্রমিক সন্তানদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পোস্ট নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, একটি দল মা বোনদের সম্মান দিতে জানে না। আমি এর প্রতিবাদ করেছি এজন্য তারা আমার দিকে মিসাইল ছুঁড়েছে। আমার এক্স একাউন্ট হ্যাক করে মা-বোনদের নিয়ে অপমাজনক পোস্ট দিয়েছে। এখন তারা কী বলবে,চোর তো ধরা পড়েছে। কিন্তু এখনো তারা চোরের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। একেই বলে চোরের মায়ের বড় গলা। আমি তাদের মাফ করে দিয়েছি। আমি আর এ নিয়ে কথা বলবো না।
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের কেন্দ্রিয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং সিলেটের বিভিন্ন আসনের প্রর্থীরা বক্তব্য রাখেন।

