আপডেট: October 21, 2026
পিরোজপুর প্রতিনিধি:: পিরোজপুরের নাজিরপুরে ট্রলারডুবির ঘটনায় শিশুসন্তানসহ নিখোঁজ গৃহবধূ রীনা বেপারীর (৩৯) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মধুরাবাধ এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে দুর্ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর তাঁর আট বছর বয়সী মেয়ে অদ্রিতা বেপারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।নিহত রীনা বেপারী নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠি গ্রামের বাসিন্দা শংকর বেপারীর স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে নাজিরপুর উপজেলা থেকে পূজা দেখে স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন রীনা। রাত ৯টার দিকে উপজেলার শ্রীরামকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় তাঁদের বহনকারী ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে আনুমানিক ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। অন্য যাত্রীরা সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও রীনা ও তাঁর মেয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। পরে রাত ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল শিশু অদ্রিতার মরদেহ উদ্ধার করে। তবে নিখোঁজ থাকেন রীনা। বুধবার সকালে মধুরাবাধ এলাকায় নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন। নিহতের দেবর সেটি রীনা বেপারীর মরদেহ বলে শনাক্ত করেন। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পিরোজপুর জেলা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক রায়হানুর আশরাফ জানান, দুর্ঘটনার দিনই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে গৃহবধূ নিখোঁজ ছিলেন। বুধবার সকালে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মধুরাবাধ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার ও শনাক্ত করা হয়।নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা জানান, ট্রলারডুবির ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে কারও বিরুদ্ধে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘাট ইজারাদার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহেলা প্রমাণিত হলে ঘাটের ইজারা বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

