আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০২০
নিজস্ব প্রতবেদক: বরিশাল বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নের উত্তমপুর গ্রামের আহমেদ হাওলাদারের ছেলে মামুন হাওলাদার (৩০)। নারায়নগঞ্জে বসবাস করা অবস্থায় করোনা উপসর্গ দেখা দিলে তিনি হাসাপাতালে ভর্তি হন। নিশ্চিত করোনার কথা শুনে হাসপাতাল থেকে নারায়নগঞ্জের বাসায় পালিয়ে চলে যান। সেখানেই তিনি মৃত্যু বরণ করেন। ইন্নালিল্লাহি অইন্না ইলাইহি রাজিউন। পরে কাউকে না জানিয়ে চুপিসারে সেই মরদেহ আনা হয় দাড়িয়ালের উত্তমপুর গ্রামে। ইউপি চেয়ারম্যান জব্বার বাবুলকে জানালে তিনি স্থানীয় কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীকে দিয়ে দাফন কাফনের ব্যবস্থা করেন। এতে জেলা প্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবশেষে বিষয়টি জানাজানি হলে সংস্লিষ্ট ৬ ছাত্রলীগ কর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে নিজ দায়িত্বে কামারখালী কলেজের একটি কক্ষে রেখেছেন ইউপি চেয়াম্যান।
সেখানেও স্বাস্থ্য বিভাগ কিংবা পুলিশ প্রশাসনের অনুমোদ নেওয়া হয়নাই। সচেতন এলাকাবাসী জানান, এই মরদেহ আনার মাধ্যমে আমাদের সকলকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হল। উভয় জেলাই যেখানে লকডাউন, সুস্থ মানুষও আসার অনুমতি নাই, সেখানে করোনা উপসর্গে মৃত ব্যক্তিকে কেন এবং কিভাবে আনা হলো বিষয়টি প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিৎ। এদিকে এই রোগীর রিপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র কোথায় আছে তার কোন সদুত্তর দিতে পারছেনা কেউ। কোন অনুমতি ছাড়া রাতের আধারে কিভাবে ঢুকলো তাও জানেনা কেউ।
এ বিষয়ে দাড়িয়াল ইউপি চেয়ারম্যান এম.এ জব্বার বাবুল বলেন, মরদেহ আসার পরে আমি ওসি এবং ইউএনও মহোদয়কে জানিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করেছি। দাফনকারীরা কোয়ারেন্টাইনে আছে। বাড়ির আত্মীয়স্বজনদের ঘরে থাকতে বলেছি। বাকেরগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, আমি বিষয়টি ফেজবুকে দেখেছি। আমাকের দাড়িয়ালের চেয়ারম্যান কিংবা অন্য কেউ জানায়নি। বিষয়টি অবশ্যিই বেআইনি এবং ভয়ংকর ঝুকিপূর্ণ। বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায়কে ফোন দিলে তার ফোনটি বন্ধ পাওযা যায়। এলাকাবাসী আরো বলেন, একজন লোক মারা গেছে। সেখানে আমাদের সহানুভুতি ও মানবিকতা অবশ্যই আছে। তবে বিশ্ব মহামারির এই সময়ে সকলের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাস্থ্য বিধী মানা খুব জরুরী। এ বিষয়ে বরিশাল এবং নারায়নঞ্জ জেলা প্রশাসনের দৃস্টি আকর্ষণ করেন তারা।

