আপডেট: এপ্রিল ১৫, ২০২৩
অনলাইন ডেস্ক:: বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে দেশীয় তৈরি অবৈধ অস্ত্র (রাম দা) হাতে কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্যের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়েছে। একই সাথে তারা দেশীয় তৈরি অস্ত্র মজুদের ছবিও পোস্ট করেছে। এসব অস্ত্র প্রদর্শন করায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (১৫ এপ্রিল) ফেসবুকের এসব ছবি গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে এসেছে। অবৈধ অস্ত্রধারীরা উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের ভুতবাড়ি গ্রামের দিনমজুর আব্দুল মজিদের ছেলে ও একই গ্রামের কাঠমিস্ত্রী আব্দুল মোমিনের ছেলে।
এদের একজন ২০২২ সালে ভান্ডারবাড়ি ছালেহা-জহুরা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছে। অপরজন একই বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। প্রথমজন ১০ এপ্রিল নিজেই তার ফেসবুকে অস্ত্র হাতে ছবি পোস্ট করে। একই সাথে একই গ্যাংয়ের অন্য এক সদস্য তার ফেসবুক পেজে রাম দা, ছোরা ও চাইনিজ কুড়ালসহ আরো সাতটি দেশীয় অস্ত্রের ছবি পোস্ট করেছে। ইতিমধ্যে ছবিগুলো মোবাইল ফোনে ফেসবুকের মাধ্যমে দ্রুত এক হাত থেকে অন্য হাতে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৫ এপ্রিল ভান্ডারবাড়ি ছালেহা-জহুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বার্ষিক বার্নির মেলা অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয়দের আয়োজনে একদিনের এই মেলাটি সরকারিভাবে ইজারা বন্দোবস্ত দেওয়া হয় না। তারপরও আয়োজক কমিটি এই মেলার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে প্রায় চার লাখ টাকা টোল আদায় করে থাকেন। মোটা অংকের এই টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে প্রতিবছরই স্থানীয়দের মাঝে বিরোধের সৃষ্টি হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও মেলায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য আগে থেকেই অস্ত্রের মহড়া চলছে। এখানে ১১ সদস্যর একটি কিশোর গ্যাং এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত থাকলেও ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতে সাহস পান না। তবে পুলিশের তৎপরতায় অস্ত্রধারীরা আত্মগোপনে রয়েছে।
ভান্ডারবাড়ি মেলার আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইউপি সদস্য আব্দুল বারিক বলেন, মেলা আয়োজক কমিটির সাথে অস্ত্রধারীদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। মেলার বিপক্ষের লোকজন অস্ত্রধারীদের ব্যবহার করে মেলা বন্ধের ষড়যন্ত্র করছে
ভান্ডারবাড়ি ছালেহা-জহুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মোহাম্মাদ আলী বলেন, বিদ্যালয় মাঠে মেলা বসানোর কোনো অনুমতি নেই। তারপরও স্থানীয়রা মাঠে মেলা করে থাকেন। অস্ত্র হাতে যাদের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে তারা বিদ্যালয় এলাকায় বখাটেপনা করে বেড়ায়। তাদের নিয়ে এলাকায় সালিশি বৈঠকও হয়েছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ফেসবুকে ছবিগুলো ছাড়ার পরপরই আমরা খবর পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশীয় অস্ত্রধারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে ফোর্স মাঠে নেমেছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।

