আপডেট: September 29, 2026
বাগেরহাট প্রতিনিধি:: বাগেরহাটে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ ও নগদের গ্রাহকদের সিমকার্ড ক্লোন করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ আন্তজেলা প্রতারক চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ১১টি মোবাইল ফোন, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৮০ হাজার টাকা এবং ২০টি মোবাইল সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিকাশ ও নগদ গ্রাহকদের সিমকার্ড ক্লোন করে প্রতারণা করে আসছিলেন।মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামের ইয়াছিন সওদাগর (২১), মোংলা উপজেলার মাদুরপাল্টা গ্রামের শামীম শেখ (২৭), বাগেরহাট সদর উপজেলার বাগদিয়া গ্রামের রাশেদ মোড়ল (২০), মোরেলগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব সরালিয়া এলাকার এহসানুল হাসান রাকিব (৩২), পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বানাতিবাজার এলাকার ফেরদাউস (২১), মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ষোলআনি এলাকার আশ্রাফুল ইসলাম (২৬), একই উপজেলার জাইসতালা এলাকার মেহেদী হাসান (২৯), বরগুনা সদর উপজেলার বালিয়াতলী এলাকার মো. নাজমুল হাসান (২০) এবং পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ভয়াং এলাকার মো. মামুন গাজী (২১)।
পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম জানান, গত ২৭ জুন মোংলা উপজেলার চিলা বাজারে বিকাশ ও নগদে লেনদেনকারী দুই ব্যবসায়ীর সিমকার্ড ক্লোন করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মোংলা থানায় মামলা হয়। ওই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ আন্তজেলা প্রতারক চক্রটির সন্ধান পায়।পরে রবিবার থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১১টি মোবাইল ফোন, ৮০ হাজার টাকা ও ২০টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতারক চক্রটি প্রথমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে গ্রাহকদের আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্টের তথ্য সংগ্রহ করে তা ক্লোন করত। এরপর ক্লোন করা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে গ্রাহকদের নামে সিমকার্ড সংগ্রহ করা হতো।
সিমকার্ড সংগ্রহের পর গ্রাহকের বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্টে প্রবেশের জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করত চক্রটি। অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেছে বা পুনরায় চালু করতে হবে—এমন কথা বলে কলসেন্টারে যোগাযোগ করত তারা। কলসেন্টার থেকে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য যেসব প্রশ্ন করা হয়, সেগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিত।পুলিশ জানায়, সঠিক তথ্য দিয়ে কলসেন্টার কর্মীদের বিশ্বাস অর্জনের পর প্রতারকরা অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ নিত। এরপর গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।এ ঘটনায় মোংলা থানায় ডিজিটাল সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

