আপডেট: ডিসেম্বর ৯, ২০২৫
ছবি: আপডেট নিউজ বিডি টোয়েন্টিফোর
পুরো জমি জুড়ে সবুজের সমারোহ। প্রথম দেখাতে অনেকেই বুঝতে পারছেন না এটি আসলে কোন ফসল? ধারণা করছেন ধনেপাতা, কিন্তু না। অন্যকে জিজ্ঞাসা করার পর জানতে পারছেন এটি হচ্ছে গাজর। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের ইউনুছ আলী আড়াই বিঘা জমিতে গাজর চাষ করে এমন অনেককেই তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
ইউনুছ আলী বলেন, উথলী বাসস্ট্যান্ড বাজারে বাংলা মটরস নামে আমার একটি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নির্দিষ্ট সেই পেশার বাইরে গিয়ে আমি গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করছি। সেই ধারাবাহিকতায় আমার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের পাশেই লিজকৃত আড়াই বিঘা জমিতে গত দুই মাস আগে গাজরের বীজ বপন করি। নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে চারাগুলোকে বড় করে তুলেছি। আর অল্প কিছুদিন পরেই গাজর বাজারজাত করতে পারব। আশা করছি আল্লাহ রহমত করলে ফলন খুব ভালোই হবে। এর আগেও বিগত দিনে আমি ধনেপাতা, কচু, মূলা, ফুলকপিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করে লাভবান হয়েছি।
জীবননগর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান বলেন, উথলী গ্রামের বিভিন্ন মাঠে আমারও চাষাবাদ রয়েছে। কমবেশি মাঠে-ঘাটে আমিও যাতায়াত করি। কিন্তু ইউনুছ ভাই ছাড়া আর কেউ উথলী এলাকায় গাজর চাষ করেছেন এমন দৃশ্য আমার চোখে পড়েনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও এই এলাকার কৃষকরা গাজরের চাষ তেমন একটা করেন না। তবে উপজেলার অন্যান্য জায়গার তুলনায় হাসাদাহ ইউনিয়নে গাজরের চাষ তুলনামূলক বেশি। জীবননগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে মোট ৫১ একর জমিতে গাজরের চাষ করা হয়েছে। আমরা তাদের সার্বিক সহযোগিতা করছি।
উল্লেখ্য, গাজর লাভজনক একটি চাষ, যা শীতকালে বেশি হয়। তবে এ চাষ সারাবছরই করা যায়। ভালো ফলনের জন্য দোআঁশ মাটি, সঠিক বীজ ও সার প্রয়োজন। বীজ বপনের আগে ২৪ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে দ্রুত চারা বের হয়। চারা বের হওয়ার পর নিয়মিত সেচ ও আগাছা পরিষ্কার করা জরুরি। বিশেষ করে চারা গজানোর পর পাতলাকরণ করে দূরত্ব বজায় রাখতে হয়।
আমিনুর রহমান নয়ন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।

