আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০২৩
অনলাইন ডেস্ক:: সরকার পতনের একদফা দাবি আদায়ে সরকারকে কোনো ছাড় দেবে না বিএনপি। দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে হাইকমান্ডের বার্তা নিয়ে ইতোমধ্যে তৃণমূল সফর করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থেকে কর্মসূচি সফলের পাশাপাশি গ্রেফতার এড়াতে নানা দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণার দিনও তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে চায় দলটি। এজন্য আগামী ২৮ অক্টোবর ঢাকার মহাসমাবেশে বড় ধরনের জমায়েতের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে মতবিনিময় সভা ও বৈঠক করছেন দলটির নেতারা। মহাসমাবেশের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুমতি চেয়ে গতকাল শনিবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তারা মহাসমাবেশটি করতে চান।
এদিকে মহাসমাবেশের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে আজ রোববার (২২ অক্টোবর) দলের যৌথ সভা ডাকা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠকে দলের সিনিয়র নেতা ছাড়াও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা উপস্থিত থাকবেন।
বিএনপি নেতারা বলছেন, নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ করার ব্যাপারে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন। কারণ, ২৮ অক্টোবর সরকারি ছুটি থাকায় যান চলাচল কম থাকবে, জনদুর্ভোগ কম হবে। তা ছাড়া একই স্থানে গত ২৮ জুলাই মহাসমাবেশ ও গত ১৮ অক্টোবর জনসমাবেশ হয়েছে। তাই সরকারের কোনো অজুহাত তারা শুনবে না। তবে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার মতো কিছু যাতে না ঘটে, সেদিকে নজর রাখছেন তারা।
বিএনপি ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশকে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জনসমাগম করতে চায়। এ ক্ষেত্রে সরকারের বাধা, গণপরিবহন ধর্মঘটসহ নানা প্রতিবন্ধকতা মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। প্রচার-প্রচারণা এগিয়ে নিতে হাতে নেওয়া হচ্ছে একগুচ্ছ কর্মসূচি। সমাবেশ সফল করতে দেশের প্রত্যেক বিভাগের প্রতিটি সাংগঠনিক জেলাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির পাশাপাশি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীর জন্যও রয়েছে দিকনির্দেশনা। কর্মসূচি সফল করতে ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি মহল্লা, ওয়ার্ড ও থানায় নেতাকর্মীকে সংগঠিত করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতারা বলেছেন, তারা দলের হাইকমান্ডকে এবার আলাদা কিছু করে দেখাতে চান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই। অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক এবং উৎসবমুখর নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ নেই। অথচ সরকার জোর করে নির্বাচনের নামে আবারও প্রহসন করতে চায়।’ আগামী ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা প্রকাশ পাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো ঢাকায় একটি বড় সমাবেশ করবে। এর বাইরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্ক পাহারার ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিএনপিকে চাপে রাখতে ২৮ অক্টোবরেই বড় সমাবেশ থাকবে আওয়ামী লীগের—এখন পর্যন্ত সেই নির্দেশনা আছে। তবে এর বাইরেও প্রয়োজন হলে ‘সতর্ক পাহারা’–এর নামে মিছিল হতে পারে। রোববার নাগাদ কর্মসূচি চূড়ান্ত হতে পারে। তবে শেষ মুহূর্তে কর্মসূচি পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশের জন্য বিএনপির নেতা-কর্মী যাঁরা আসবেন, তাঁদের দলটি ঢাকায় রেখে দিতে পারে। এরপর লাগাতার সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান ঘেরাও কর্মসূচি দিতে পারে। ২৮ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত বড় কিছু করার লক্ষ্য বিএনপির। এ পরিস্থিতিতে বিএনপিকে ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ করতে দেওয়া ঠিক হবে কি না, এই আলোচনাও আছে সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে। তাঁদের কেউ কেউ গত বছরের ১০ ডিসেম্বরের মতো সড়কে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার পক্ষে।
সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশকে জানিয়ে বিএনপি নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে সমাবেশ করেছে। ২৮ অক্টোবর সেখানে সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অন্য কোনো মাঠে সমাবেশ করার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। এই কৌশলে সমাবেশ এক-দুই দিন পিছিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হতে পারে বিএনপিকে। এ দুটির যেকোনো পরিস্থিতিতে নিশ্চিতভাবেই বিএনপির জমায়েত ছোট হয়ে যাবে। আর বিএনপি বিনা অনুমতিতে সমাবেশ করতে চাইলে গত ২৯ জুলাই ঢাকার প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচির মতো তাদের দাঁড়াতেই দেওয়া হবে না।
সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ মনে করেন, বিএনপি যাতে জমায়েত বড় না করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে পারলেও চলে। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে মানুষের ঢাকা প্রবেশ সীমিত করে দিতে হবে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর দায় কম পড়বে।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘বিএনপিকে আগেই বলা হয়েছে বড় সমাবেশ সড়কে না করে কোনো মাঠে করতে। তারা যদি এবার সড়ক দখল করে দুর্ভোগ সৃষ্টি করতে চায়, তা সরকার মেনে নেবে না। প্রয়োজনে তুলে দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’
সরকারি সূত্র বলছে, ২৯ অক্টোবর মেট্রোরেলের আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের উদ্বোধন পেছানো হচ্ছে। ওই দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বড় সমাবেশের কর্মসূচি ছিল আওয়ামী লীগের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণ দেওয়ার কথা। এখন মেট্রোরেলের উদ্বোধন ৪ নভেম্বর হতে পারে। আর ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুরের মধ্যেই কর্মসূচি শেষ করে ঢাকায় চলে আসবেন ওবায়দুল কাদেরসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

