আপডেট: April 10, 2022
অনলাইন ডেস্ক:: মাদারীপুরের ডাসারে ৬ষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় তুলে নিয়ে গণধর্ষণ মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
চেতনানাশক খাইয়ে প্রথমে নগ্ন ভিডিও ধারণ করে ওই শিক্ষার্থীকে চারদিন আটকে রেখে পালাক্রমে গণধর্ষণ করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে র্যাব। পরে গ্রেফতারকৃতদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে কোটালীপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পলটানা গ্রামের কালু বাড়ৈর ছেলে গোপাল বাড়ৈ, একই গ্রামের খোকন বাড়ৈর ছেলে অটল বাড়ৈ, প্রতাপ বাড়ৈর ছেলে প্লাবণ বাড়ৈ ও মুশুরিয়া গ্রামের নারায়ণ বালার ছেলে বরুণ বালা।
রোববার দুপুরে র্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ সাদিকুল ইসলাম জানান, গত ২৬ মার্চ রাতে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা থেকে পাশের মামার বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া যাচ্ছিল ৬ষ্ঠ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। পরে মাঝপথে পিড়ারবাড়ি এলাকা থেকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মোটরসাইকেল যোগে ১২ বছরের ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় একটি পরিত্যক্ত ভবনে। সেখানে অচেতন করে প্রথমে নগ্ন ভিডিও ধারণ করে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে চার বখাটে। পরদিন অবস্থান পরিবর্তন করে অপর একটি দোতলা ভবনে নিয়ে আরো তিনদিন আটক রেখে গণধর্ষণ করা হয় ওই শিক্ষার্থীকে।
বখাটেরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকায় জানালা ভেঙে পালিয়ে যায় মেয়েটি। পরে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয় নির্যাতিতা। এ ঘটনায় নির্যাতিতার বাবা বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় চারজনকে আসামি করে গণধর্ষণ মামলা করেন। অভিযান চালিয়ে সোমবার থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর শাহাবাগ থেকে গোপাল বাড়ৈ মাদারীপুরের শিবচর থেকে বরুণ বালা, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে অটল বাড়ৈ ও প্লাবণ বাড়ৈকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে রোববার দুপুরে মাদারীপুর ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় র্যাব।
গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানায় র্যাব। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়া শেষে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানায় আসামিদের হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া নির্যাতিতার পরিবারকে সবধরনের আইনগত সহায়তা প্রদানের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে র্যাবের পক্ষ থেকে। এদিকে গোপালগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নির্যাতিতা ওই শিক্ষার্থীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

