২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

দাঁড়িপাল্লার এজেন্ট থাকায় মসজিদের ইমাম চাকরিচ্যুতের অভিযোগ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

অনলাইন ডেস্ক:: কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার হেসাখাল এলাকায় জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় এক মসজিদের ইমামকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে জানা যায়, হেসাখাল খামার পাড়া মজুমদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. আব্দুল আলিম ভূইয়া (৫৮) গত শুক্রবার চাকরিচ্যুত হন। তাকে চাকরিচ্যুত করেন উপজেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও হেসাখাল গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার।স্থানীয়রা জানান, হেসাখাল গ্রামের মমতাজউদ্দিনের ছেলে হাফেজ আব্দুল আলিম প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই মসজিদে ইমামতি করে আসছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেসাখাল বাজার ভোটকেন্দ্রের মহিলা বুথে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এর জেরে তাকে ইমামতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।এ বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে, মসজিদ কমিটিতে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব না থাকলেও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার তাকে অপসারণ করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোজাফফার হোসেন সেলিম দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

চাকরিচ্যুত ইমাম হাফেজ আব্দুল আলিম ভূইয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, “জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লার এজেন্টের দায়িত্ব পালন করায় আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বল্প বেতনে চাকরি করি। এখন রমজান মাস, এ সময়ে নতুন করে কোথাও চাকরি পাওয়া কঠিন। নির্বাচনের দিন দুইজনকে নামাজ পড়ানোর দায়িত্ব দিয়ে আমি কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাহাঙ্গীর আলম মজুমদারকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোজাফফার হোসেন সেলিম বলেন, “গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার আমার ওপর হামলার চেষ্টা করেন। তিনি মসজিদ কমিটির সভাপতি ওবায়েদ হোসেন মজুমদারের কথাও শোনেননি।”

উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এস এম মহিউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি সত্য। ইমামকে মসজিদে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। তাকে সসম্মানে পুনর্বহাল করা হলে পরিবারটি উপকৃত হবে।

অন্যদিকে, কুমিল্লা-১০ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত বলেন, “ফ্যাসিবাদী আচরণ করলে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে। আলেম-ওলামারা জাতির পথপ্রদর্শক। নাঙ্গলকোট-লালমাই এলাকায় তাদের কোনোভাবে হয়রানি করা উচিত নয়।”ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হবে বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network