আপডেট: September 16, 2026
গৌরনদী প্রতিনিধি: বরিশালের গৌরনদীতে মাদকসহ এক যুবক গ্রেপ্তারের সংবাদ প্রকাশের ‘দায়’ চাপিয়ে সাংবাদিক সোলায়মান তুহিনকে গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে গৌরনদী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই সাংবাদিক।
জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর গৌরনদী মডেল থানার পুলিশ বড় কসবা ইসলামিক মিশন সংলগ্ন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক থেকে তৌফিকুর রহমান (২৩) নামে এক যুবককে ৫৩ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে সাংবাদিক সোলায়মান তুহিনের দাবি, ওই সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া তৌফিকুর রহমানের বড় ভাই মো. আব্দুল্লাহ সরদার সংবাদটি প্রকাশের জন্য সাংবাদিক তুহিনকে দায়ী করেন। বিষয়টি নিয়ে তুহিন তাকে সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান। এরপরও তাকে মেসেঞ্জারে একাধিক অশোভন, অপমানজনক ও হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক সোলায়মান তুহিন বলেন, সংবাদ নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম কিংবা তথ্যের উৎসের কাছে বিষয়টি জানানো যেতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তাকে দায়ী করে গালাগাল বা হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তুহিনের ভাষ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১৪ মিনিটের পর থেকে তার মেসেঞ্জারে একাধিক বার্তা পাঠানো হয়। এসব বার্তায় অশোভন ও অপমানজনক বক্তব্যের পাশাপাশি ভয়ভীতি ও হুমকির ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার। পরে রাত ১২টা ৫৪ মিনিটের দিকে আব্দুল্লাহ সরদারের ব্যবহৃত ০১৭১৭২৪৯১২০ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানতে চাইলে সেখানেও তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয় বলে দাবি করেন তুহিন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. আব্দুল্লাহ সরদারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সোলায়মান তুহিনের সঙ্গে আমার পারিবারিক পূর্ববিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরেই তাকে গালাগালি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।”
তবে আব্দুল্লাহ সরদারের এ দাবি অস্বীকার করেছেন সাংবাদিক সোলায়মান তুহিন। তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহ সরদারের সঙ্গে আমার কোনো পারিবারিক পূর্ববিরোধ নেই। সংবাদ প্রকাশের বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই তিনি আমাকে দায়ী করছেন এবং এ নিয়ে আমার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন।”
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, “এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

