বৃদ্ধকে নারীসহ আটকের অভিযোগ, মামলা নিয়ে উজিরপুরে চাঞ্চল্য

আপডেট: September 19, 2026

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:: বরিশালের উজিরপুরে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় সালেক হাওলাদার (৬১) নামে এক বৃদ্ধকে আটকের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ছয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই বৃদ্ধ। তবে মামলাটিকে হয়রানিমূলক দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, নারীসহ সালেক হাওলাদারকে আটকের ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের দোসতিনা গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে।স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. রফিকুল সরদার অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার দিন তিনি শ্রমিকদের নিয়ে সালেক হাওলাদারের বাড়ির পেছনে গাছ কাটছিলেন। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাকে ডেকে জানান, সালেক হাওলাদার ঘরের দরজা বন্ধ করে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছেন। পরে সেখানে গিয়ে তারা ওই নারীসহ সালেক হাওলাদারকে দেখতে পান বলে দাবি করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাদের ঘর থেকে বের করে আনেন।সালেক হাওলাদারের ভাতিজা ও স্থানীয় জামায়াত নেতা হাসেন হাওলাদার লালু বলেন, স্থানীয়রা তার চাচাকে নারীসহ আটক করে তাকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি চাচাকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। ওই নারীও নিজের সংসার রক্ষার জন্য অনুরোধ করেন। পরে তারা ক্ষমা চাইলে স্থানীয়রা দুজনকে ছেড়ে দেন বলে দাবি করেন তিনি।

লালুর অভিযোগ, ওই ঘটনার পর তার চাচা তাকে এবং বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতেই তাদের মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গুঠিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু বলেন, নারীসহ সালেক হাওলাদারকে আটকের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। পরে সেখান থেকে চলে আসার পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সালেক হাওলাদার। তিনি বলেন, কয়েকজন তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর এবং টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেছে। এ ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে তিনি থানায় মামলা করেছেন। নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটকের অভিযোগও সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নারীসহ সালেক হাওলাদারকে আটকের দাবি করলেও ঘটনাটির বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নথিপত্র বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার ওসি মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, সালেক হাওলাদারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network