১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

ঘণ্টায় ৩০০ কিমি গতির মিসাইল বানালেন বরিশালের দুই শিক্ষার্থী

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০২৬

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল প্রতিনিধি:: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মামা-ভাগ্নের এক অবিস্মরণীয় আবিষ্কার মিসাইল ও রকেট। জানা গেছে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা মাথায় রেখে ৬–৭ মাস আগে উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের গৌতম পালের ছেলে এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র প্রিতম পাল ও তার মামা একই গ্রামের জয়দেব চন্দ্র পালের ছেলে এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সুজন চন্দ্র পাল মিলে থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট তৈরির কাজ শুরু করেন।নিজেদের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ও পরিবারের সহযোগিতা নিয়ে ২০২৫ সালে শুরু করে ৬–৭ মাসের চেষ্টায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সম্প্রতি মিসাইল এবং রকেটের কাজ সম্পন্ন করেছেন। এই মিসাইল ও রকেট ৫ কিলোমিটার রেঞ্জে ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। মিসাইল এবং রকেটের কাজ শেষ হলেও সরকারের অনুমতি ছাড়া এটি নিক্ষেপ ও উড্ডয়ন করতে পারছেন না তারা।

দুজনই আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামের বাসিন্দা, একই বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী। তারা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে এবং দুজনেই রোবটিক্স সেক্টর নিয়ে কাজ করছেন। এ কারণে দুজনের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক রয়েছে।তারা দুজনেই রোবটিক্স নিয়ে কাজ করায় আইডিইএ প্রকল্প থেকে ১০ লাখ টাকার ফান্ড পেয়েছিলেন। এছাড়া নাসা প্রকল্পের প্রতিযোগিতায় সেরা দশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন তারা দুজনে।

প্রিতম পাল রোবটিক্স হাত ও স্মার্ট সিটি তৈরি করায় ২০২৪ সালের ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে স্বর্ণপদক এবং বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে পুরস্কার হিসেবে রৌপ্যপদক পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণে ২০২৪ সালে উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞানে বর্ষসেরা মেধাবী পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়াও আধুনিক জীবনযাপনের লক্ষ্যে স্মার্ট সিটির রূপরেখা তৈরি করেছেন।সুজন চন্দ্র পাল ২০২২ সালে রোবট আবিষ্কার করেন, যা দিয়ে আগুন লাগলে ও গ্যাস লিকেজ হলে সংকেত দিত। যার কারণে ২০২৩ সালে ৪৪তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।

এ ব্যাপারে প্রিতম পালের পিতা ইউপি সচিব গৌতম পাল সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে প্রিতম পাল টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে এবং আমাদের কাছ থেকেও টাকা নিয়ে এ আবিষ্কার করেছে। আমরা তাদের কাজে গর্বিত, তারা যেন দেশের সেবায় কাজ করতে পারে এজন্য সরকার ও দেশবাসীর কাছে সহযোগিতা ও দোয়া চাই।সুজন চন্দ্র পাল সাংবাদিকদের বলেন, স্কুলজীবন থেকেই আবিষ্কারের প্রতি আগ্রহ ছিল। তার ধারাবাহিকতায় কম্বাইন করে আমরা থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট তৈরি করেছি। ভবিষ্যতে বড় কিছু করার জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network