আপডেট: August 1, 2026
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি ইয়েলোফিন টুনা মাছ। মাছটির ওজন ২৮ কেজি ৯০০ গ্রাম। স্থানীয় জেলেদের কাছে এটি ‘হলুদ পাখনা টুনা’ নামে পরিচিত। এটি পায়রা বন্দর সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে এফবি সজীব ট্রলারের জেলে জালে ধরা পড়ে।
শুক্রবার দুপুরের দিকে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এই মাছটি মৎস্য বন্দর আলীপুরের মেসার্স মনি ফিশ আড়তে নিয়ে আসলে নিলামের মাধ্যমে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে ৪০ হাজার ৪৬০ টাকায় মাছটি কিনে নেন স্থানীয় এক মৎস্য ব্যবসায়ী।
এ অঞ্চলে এমন মাছ খুবই কম ধরা পড়ে। তবে এই মাছটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও দামি বলে জানান মৎস গবেষকরা।
আড়ৎ সূত্রে জানা গেছে, বিরল প্রজাতির ইয়েলোফিন টুনা মাছটি বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। ভালো দামে বিক্রির জন্য এটিকে ঢাকার বাজারে পাঠাবেন ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন।
এফবি সজীব ট্রলারের জেলে জীবন মাঝি বলেন, গত দুই দিন আগে পায়রা বন্দর সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে তাদের জালে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এই মাছটি ধরা পড়ে। এ ধরনের মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না। তবে মাছটির ভাল দাম পেয়ে খুশি তারা।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ওয়ার্ল্ডফিশ-এর ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ইয়েলোফিন টুনা (Thunnus albacares) একটি বৃহৎ আকারের, উচ্চমাত্রায় পরিযায়ী সামুদ্রিক পেলাজিক মাছ। এটি বিশ্বের উষ্ণ ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্রে বিস্তৃতভাবে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রধানত বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র, বিশেষ করে দেশের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ) ও সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড এলাকায় এ মাছের বিচরণ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ মাছ বিশ্ববাজারে অত্যন্ত মূল্যবান। তাজা, হিমায়িত, ক্যানজাত, সাশিমি ও সুশির কাঁচামাল হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি এটি উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন-ডি, বি-কমপ্লেক্স, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক ও আয়রনের সমৃদ্ধ উৎস। তবে অতিরিক্ত আহরণ রোধ এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এ মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ইয়েলোফিন টুনা বিশ্বের ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মহাসাগরের গভীর জলে বসবাসকারী একটি দ্রুতগতির মাছ। পূর্ণবয়স্ক মাছের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ৪ মিটার এবং ওজন ২০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত গভীর সমুদ্রে বিচরণ করলেও অনুকূল পরিবেশে মাঝে মধ্যে উপকূলের কাছাকাছিও চলে আসে। ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ কিলোমিটার বেগে সাঁতার কাটতে সক্ষম এ মাছ বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগামী সামুদ্রিক মাছের মধ্যে একটি।

