আপডেট: November 7, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক:: রিশাল নগরীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সৎ মামা ও তার ছেলেদের হামলায় মো. কামরুল ইসলাম রাঢ়ী (৫২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব পুরানপাড়া বটতলা ছোট মসজিদসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের সৎ মামা, তার স্ত্রী ও ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর সৎ মামার বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
নিহত কামরুল ইসলাম ওই এলাকার হাওলাদার বাড়ির মালেক রাঢ়ীর ছেলে। আটক ব্যক্তিরা হলেন তার সৎ মামা আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, আনোয়ারের স্ত্রী খাদিজা বেগম ও ছেলে মিরাজ হোসেন।
নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তার শাশুড়ি থাকার জন্য আনোয়ার হোসেনকে দুই শতাংশ জমি দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ছয় শতাংশ জমি দখল করে রেখেছেন। এ নিয়ে সালিস-মীমাংসার পাশাপাশি গত ৮-১০ বছর ধরে আদালতে মামলা চলছে।
তিনি বলেন, শনিবার সকালে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন তারা। এ সময় আনোয়ার ও তার দুই ছেলে কাজে বাধা দেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আনোয়ার ও তার ছেলে মিরাজ তার স্বামীকে মারধর শুরু করেন। তখন অপর ছেলে সুরুজ পেছন থেকে বাটুল দিয়ে কামরুলকে কোপ দেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপরও তাকে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় কামরুলকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কাউনিয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় কামরুলকে কুপিয়ে জখম করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের টিন ও কাঠের তৈরি বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়। এতে ঘরটি পুড়ে যায়। কাউনিয়া থানার এসআই হরষিত মন্ডল জানান, কারা আগুন দিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শোনা গেছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত আনোয়ারের নাতি তাহসিন পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘরটিতে আগুন দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

