আপডেট: April 18, 2022
আপডেট নিউজ: ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করার জন্য বরিশাল নৌ-যাত্রী ঐক্য পরিষদ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন।
আজ ১৮ এপ্রিল সোমবার সকাল ১১ টায় নৌ যাত্রী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলুর নেতৃত্বে স্মারকলিপি পেশ করা হয়। জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে স্থানীয় সরকারের উপ- পরিচালক শহীদুল আলম স্মারকলিপি গ্রহন করেন।
এ স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনা মহামারির প্রকোপের কারনে দক্ষিণাঞ্চলের অনেক মানুষ যারা দেশের বিভিন্ন জেলায় নানা পেশায় নিয়োজিত তারা অধিকাংশ ঘরমুখো হয়নি। এ বছর করোনার প্রকোপ না থাকায় ও সপ্তাহব্যাপি ছুটি থাকায় মানুষ আত্মিয় পরিবার পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে যাবেন। কিন্তু প্রতিবছর ঈদুল ফিতর সহ বড়কোন ছুটির সময় প্রতিটি নৌযানে ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত কয়েকগুন বেশি যাত্রী বহন ও নিয়মিত ভাড়ার পরিবর্তে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা নিয়মে পরিনত হয়েছে৷ এর সাথে যাত্রী হয়রানি তো আছেই।
তাই এসব সংকট নিরসনে নিম্নবর্ণিত দাবী সমূহ বাস্তবায়িত হলে নৌ যাত্রা পুনরায় নিরাপদ ও আরামদায়ক হয়ে ফিরে আসবে।
১। ট্রেন স্টেশন বাস স্টান্ড ও বিমান বন্দরের মতো নৌ পরিবহন টার্মিনালে ইজারা প্রথা বাতিল করে টার্মিনাল টোল আদায় বন্ধ করতে হবে
২। নৌ পরিবহনে বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করে পূর্বের ভাড়া কার্যকর করতে হবে।
৩। নৌ পরিবহনে ভ্রমণকারী শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিতে হবে।
৪। নৌ পরিবহনে ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধ করতে হবে।
৫। প্রতিটি নৌ পরিবহনে পর্যাপ্ত বয়া, লাইফজ্যাকেটসহ সর্বোচ্চ যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতিটি নৌপরিবহনের স্টাফদের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যাবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
৬। অবিলম্বে নৌ পরিবহনে যাত্রী বিমা চালু করতে হবে।
৭। প্রতিটি লঞ্চের ইঞ্চিন রুমের পাশ থেকে খাবর হোটেল ক্যান্টিন সরিয়ে নিতে হবে।
৮। দক্ষ মাস্টার, সুকানি ও গ্রীজার নিয়োগ দিতে হবে এবং ফিটনেসবিহিন নৌযান সার্ভিস বন্ধ করতে হবে।
৯। লঞ্চ স্টিমারের ক্যান্টিন ও চায়ের দোকানে অতিরিক্ত দাম নেয়া যাবে না।
১০। নৌ যান কর্মচারী ও ঘাট শ্রমিকদের দ্বারা যাত্রী হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
১১। নৌ ভ্রমন কালে যাত্রীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং অজ্ঞান পার্টি মলম পার্টি সহ অন্যকোন প্রকার যাত্রী প্রতারনার দায় ও ক্ষয়ক্ষতি নৌ কর্তপক্ষকে নিতে হবে।
১২। ঢাকা-বরিশাল-খুলনা রুটে পূর্বের ন্যায় সপ্তাহে সাত দিন স্টিমার ও অত্যাধুনিক দ্রুতগতিসম্পন্ন নৌ যান চালু করতে হবে।
বরিশাল নৌ-যাত্রী ঐক্য পরিষদ কর্তৃক উত্থাপিত ১২দফা দাবি বাস্তবায়ন সহ আগামী ঈদুল ফিতর ও বর্ষা মৌসুমে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জান মাল নিয়ে স্বাচ্ছন্দে নিরাপদ যাত্রায় নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

