বড় বোনের পর শ্যালিকাকে বিয়ে, চুনকালি মেখে গ্রামছাড়া করলেন এলাকাবাসী

আপডেট: October 27, 2026

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

অনলাইন ডেস্ক:: নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করে আলোচনায় আসা টিকটকার ও আইনজীবীর সহকারী মাসুদ রানাকে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায় তার মুখে চুন-কালি মাখিয়ে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।জানা গেছে, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে শ্যালিকাকে বিয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের আপত্তি ও ভাড়া বাসায় থাকতে না দেওয়ার হুমকির মুখে সোমবার সন্ধ্যায় বদলগাছী ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন মাসুদ রানা (৩৫)। তার সঙ্গে ছিলেন প্রথম স্ত্রী মৌসুমী (২৮) ও দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমা (২১)।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাসুদ রানা নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা।

তার প্রথম স্ত্রী মৌসুমী ও দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমার বাড়ি মহাদেবপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে। এর আগে মাসুদ রানা বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় মো. মুসলিম উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। রবিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পূর্ণিমার সঙ্গে মাসুদ রানার বিয়ে হয়। পরিবারের সম্মতি এবং প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর অনুমোদনেই এ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

বিয়ের পর মাসুদ ও পূর্ণিমা নিজেদের বিয়ের খবর ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
এদিকে বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বদলগাছী এলাকার কয়েকজন তাদের ভাড়া বাসায় থাকতে দেওয়া হবে না বলে ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাসুদ রানা ও পূর্ণিমা ভাড়া বাসার মালামাল নিয়ে বদলগাছী ছেড়ে মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সোমবার রাত ১০টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরাম গ্রামে স্থানীয় কয়েকজন মাসুদ রানার মুখে চুন-কালি মাখিয়ে তাকে এলাকা থেকে বের করে দেন।

এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এ ধরনের বিয়ে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করেন। এ কারণেই মাসুদ রানাকে এলাকায় থাকতে দিতে চাননি তারা।

ইসলামী বিধানের বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, ‘পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে দুই বোনকে একই সময়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। একজন স্ত্রী বৈবাহিক সম্পর্কে থাকা অবস্থায় তার বোনকে বিয়ে করা যায় না। তবে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হলে কিংবা বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত বিধান অনুসারে তার বোনকে বিয়ের বিষয়টি বিবেচিত হতে পারে।’মাসুদ রানা জানান, তার শ্যালিকা পূর্ণিমার অন্য কোথাও বিয়ে হলে তাদের আগে ধারণ করা ভিডিওগুলোকে কেন্দ্র করে তাকে হয়রানির শিকার হতে হতো বলে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন। এ কারণেই প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর সম্মতি ও সহযোগিতায় পূর্ণিমাকে বিয়ে করেছেন তিনি।ঘটনার বিষয়ে জানতে মহাদেবপুর থানার ওসি মো. ওমর ফারুকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network