আপডেট: October 12, 2026
অনলাইন ডেস্ক:: বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধের জেরে প্রায় ২৮ ঘণ্টা পার হলেও সম্পন্ন হয়নি দাফন। সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অংশ বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত বাবার দাফনে সম্মতি দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মেয়ে হালিমা বেগম। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে।
মৃত ব্যক্তি নাজির উদ্দিন ব্যাপারী (৮০) বোয়ালীদহ গ্রামের মৃত রহিম উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। সে অনুযায়ী এলাকাবাসী ও মুসল্লিরাও জানাজায় অংশ নিতে উপস্থিত হন। তবে সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ছেলে ইদ্রিস আলী ব্যাপারী ও মেয়ে হালিমা বেগমের দ্বন্দ্বের কারণে সোমবার বিকেল পর্যন্ত দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
মেয়ে হালিমা বেগমের অভিযোগ, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকাকালে প্রায় দেড় বছর আগে ভাই আলহাজ্ব ইদ্রিস আলী ব্যাপারী কৌশলে বাবার সমুদয় সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেন। বিষয়টি জানতে পেরে আপত্তি জানালে ভাই সমাধানের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত সম্পত্তিতে নিজের অংশ পাননি বলে দাবি করেন হালিমা। স্থানীয়ভাবে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নয়, বরং বাবার সম্পত্তিতে আইনি ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানান।
এদিকে ইদ্রিস আলীর এমন আচরণে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ইদ্রিস আলী দীর্ঘ দেড় বছর ধরে তাঁর বোনকে ঘোরাচ্ছেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে খারাপ আচরণও করেছেন।ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছেলে আলহাজ্ব ইদ্রিস আলী ব্যাপারী গণমাধ্যমের সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।ঘটনাটি জানাজানি হলে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান জানান, তারা উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছেন।বাবার মরদেহের দাফন আটকে থাকা এবং সম্পত্তির অধিকার নিয়ে ভাই-বোনের এই বিরোধে পুরো এলাকায় চাপা উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অতি দ্রুত এই বিরোধের নিষ্পত্তি ঘটিয়ে মরদেহের সম্মানজনক দাফনের দাবি জানিয়েছেন।

