২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানজুড়ে যৌথ বিধ্বংসী হামলা, চরম উত্তেজনায় বিশ্ব বাকেরগঞ্জে শতাধিক স্থানে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক,মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও থানা পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ সংরক্ষিত এমপি হিসেবে দুর্দিনের বিএনপি নেত্রী ফাতেমা রহমানকে চায় বরিশালবাসী নলছিটিতে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার দাফনে অংশ নিলেন ছাত্রলীগ নেতা উজিরপুরে দলিল লেখক সমিতির কমিটি ঘোষণা লাভলু সভাপতি, সবুজ সাধারণ সম্পাদক, সোহাগ সাংগঠনিক সম্পাদক শতাধিক পরিবারের মুখে হাসি ফুটালো “আনোয়ারা আশ্রাফ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন” বৃত্তিতে শতভাগ সাফল্য অর্জন নাগেশ্বরীর আল-কারীম ক্যাডেট মাদ্রাসা সেচ সংকট ও জলাবদ্ধতায় তালতলীতে চাষাবাদ ব্যাহত দিশেহারা কৃষক বাকেরগঞ্জে সাংবাদিকদের সন্মানে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানজুড়ে যৌথ বিধ্বংসী হামলা, চরম উত্তেজনায় বিশ্ব

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক প্রলয়ঙ্কারী অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। আজ শনিবার ভোররাত থেকে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত পাঁচটি বড় শহরে নজিরবিহীন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।এই প্রথম কোনো প্রকাশ্য অভিযানে সরাসরি ইরানের মূল ভূখণ্ডে যৌথভাবে আঘাত হানল দেশ দুটি। তেহরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা দপ্তর এবং পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলো এখন আগুনের কুণ্ডলী।

শনিবার দুপুর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পাঁচটি প্রধান শহর তেহরান, ইস্পাহান, কোম, কারাজ এবং কেরমানশাহ ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক ও কৌশলগত মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া।

আল-জাজিরা ও বিবিসি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, তেহরানে অবস্থিত এই মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যালয়ে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। পারচিন সামরিক কমপ্লেক্স, ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি। পারমাণবিক শক্তি সংস্থা, তেহরানের পারমাণবিক গবেষণা সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গেছে ও গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়, তেহরানের উত্তর ও পূর্ব অংশে অবস্থিত গোয়েন্দা দপ্তরে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার পরপরই এক বিবৃতিতে সরাসরি অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে একটি বড় যুদ্ধ অভিযান শুরু করেছে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য মার্কিন জনগণকে রক্ষা করা এবং ইরানি শাসকদের দীর্ঘদিনের হুমকি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া।‘এই বিবৃতিটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে, কারণ এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিল।

আন্তর্জাতিক সংবাদ বিশ্লেষণ
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই অভিযানকে ‘প্রি-এম্পটিভ অ্যাটাক’ বা আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। হামলার পরপরই ইসরায়েলজুড়ে ‘বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করা হয়েছে। তেল আবিবের দাবি, ইরান থেকে বড় ধরনের কোনো সম্ভাব্য আক্রমণ নস্যাৎ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তেহরান থেকে সরিয়ে একটি অত্যন্ত নিরাপদ ও গোপন স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে রয়টার্স নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে, তেহরানের অতি-সুরক্ষিত ‘পাস্তুর জেলায়’ (যেখানে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় অবস্থিত) দফায় দফায় বিস্ফোরণ ঘটলেও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ আছেন।তেহরানের আকাশে এখন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। শহরের ‘ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট’ এবং ‘রিপাবলিক’ এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামলার প্রভাবে তেহরানের বিভিন্ন অংশে মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে। ইরানের সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশটির পুরো আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে।

হামলার পর ইরান চুপ করে নেই। ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তেহরান ইতিমধ্যেই ‘ভয়াবহ প্রতিশোধ’ নেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি পাল্টা আঘাত হানে, তবে তা হবে বর্তমান দশকের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক যুদ্ধ।

এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাশিয়া ও চীন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংযত হওয়ার আহ্বান জানালেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের অবস্থানে অনড়।২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখটি ইতিহাসের পাতায় এক রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল। একদিকে তেহরানের ধ্বংসস্তূপ, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়োল্লাস—সব মিলিয়ে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে পৃথিবী। ইরানের পাল্টা জবাব কী হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network