৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

চরফ্যাশন কারামাতিয়া কামিল(এমএ) মাদ্রাসার জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

আপডেট: জুন ৩, ২০২৬

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার চরফ্যাশনে ঐতিহ্যবাহী কারামাতিয়া কামিল(এমএ) মাদ্রাসার দলিলভুক্ত ও দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, চরফ্যাশন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মসজিদের নামে কতিপয় ব্যক্তি সম্প্রতি জমিটির মালিকানা দাবি করে সেখানে বেষ্টনী নির্মাণ ও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে মাদ্রাসার পশ্চিম পাশে অবস্থিত অনার্স ভবনের পেছনের খালি জায়গায় কয়েকজন ব্যক্তি বাঁশের খুঁটি পুঁতে বেড়া নির্মাণ শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল আমিন পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টরা সেই নির্দেশ অমান্য ফের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করেন ।
এদিকে একই দিন রাত প্রায় ৮টার দিকে মাদ্রাসা মার্কেটের পূর্ব ও উত্তর পাশের তিনটি দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া দোকান ভাড়াটিয়াদের মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে ভাড়া প্রদান না করার জন্যও বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আবারো কয়েকদিনের বিরতি দিয়ে বেষ্টনী নির্মাণ কাজ শুরু করেছে মাদ্রাসার প্রতিপক্ষ ঐ গ্রুপটি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় যে কোন সময় দু-পক্ষের মধ্যে সংঘাত বাধার আশংকা তৈরি হয়েছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আরও জানান, ব্রিটিশ আমলে চরফ্যাশন আলিয়া মাদ্রাসা, কেন্দ্রীয় মসজিদ, ঈদগাহ ও গোরস্থানের জন্য মোট ২ একর ২৬ শতাংশ জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে ১৯৪০ সালের জরিপে (এসএ রেকর্ড) জমিটি মাদ্রাসার নামে না হয়ে মসজিদের মোতায়াল্লির নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে তৎকালীন মোতায়াল্লি ওয়াকফ দলিলের মাধ্যমে ৭৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ জমি মাদ্রাসার নামে হস্তান্তর করেন। এরপর থেকে মাদ্রাসা ওই ৭৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ জমির রেকর্ডীয় মালিক হিসেবে ভোগদখলে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বৈধ কাগজপত্র ও রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও একটি পক্ষ জোরপূর্বক জমির মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সভাপতি দাবিকরা মীর সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মাদ্রাসা ৭৫ শতাংশের বেশি জমি দখলে আছে বলে আমরা জানি, তবে উভয় প্রতিষ্ঠানের কাগজ পত্র ও দখল মাপার পর পরিস্কার বুঝা যাবে। চরফ্যাশনের থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহামুদ আল ফরিদ ভূইয়া বলেন, সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করেছে, দুই পক্ষকে শান্ত থাকতে বলেছি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network