শিরোনাম
বরিশালে নুরুজ্জামান হত্যার প্রধান আসামি স্ত্রী নাসিমা ঢাকায় গ্রেপ্তার বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে বাড়ল ‌১৭ পয়সা উজিরপুরে সার ডিলার পেতে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ নেতার আবেদন, বিএনপিতে ক্ষোভ কলসকাঠী ইউনিয়নে মেম্বার পদে প্রার্থী হচ্ছেন সোহেল হাওলাদার জীবননগরে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বাকেরগঞ্জের গারুড়িয়া পানি নিষ্কাশনের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন ঐতিহ্যবাহী ছিলোনিয়া হাই স্কুল অ্যালামনাই কমিটি’র আত্মপ্রকাশ বাকেরগঞ্জে ভ্যানচালক সুমন হত্যা: আসামিদের গ্রেপ্তার ও সিআইডি তদন্তের দাবি বাউফলে পৌর প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে উত্তেজনা, হামলা-ককটেল বিস্ফোরণ

৪৫ বছর পর শহীদ জিয়ার খুনি পলাতক অবসরপ্রাপ্ত মেজর গ্রেপ্তার

আপডেট: July 16, 2026

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

অনলাইন ডেস্ক::

চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে রাতের অন্ধকারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যার ঘটনা ঘটায় একদল বিপথগামী সেনা। এই মামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা আসামি মেজর মোজাফফর হোসেন (অব.) কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট মার্শাল সম্পন্ন করার জন্য তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা হামলা চালিয়ে তৎকালীন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মামলাসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর তিনিই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে জানান, “The President has been killed.”

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তখন মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন।

অবশেষে ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। তার গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়ে নতুন অগ্রগতি এলো। সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখন তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network