আপডেট: September 12, 2026
নির্ধারিত সময়েই নির্মাণ শেষ, উদ্বোধনের পর যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত
উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন আরসিসি আর্চ সেতু এখন স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী ও মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সেতুটি দেখতে আসছেন। স্থানীয়দের অনেকেই এর নকশাকে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার সেতুর সঙ্গে তুলনা করছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় উজিরপুর উপজেলার সানুহার আরঅ্যান্ডএইচ-ধামুরা জিসি-জল্লা-সাতলা জিসি সড়কের ৭৮৬০ মিটার চেইনেজে ধামুরা খালের ওপর ৫৫ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি আর্চ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার (জিওবি) ও আইডিএ অর্থায়ন করেছে।
সেতুটির প্রকল্প ব্যয় ৯ কোটি ৯৪ লাখ ২৩ হাজার ৫৭৩ টাকা। নির্মাণকাজ শুরু হয় ৪ মে ২০২৩ এবং কাজ শেষের তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২৮ এপ্রিল ২০২৬। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে এলজিইডি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম/এস এমএই-শামস-উপকূল (জেভি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করা হয়। পরে উদ্বোধনের পর সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সানুহার-ধামুরা-জল্লা-সাতলা সড়কে চলাচলকারী মানুষকে আর আগের মতো খাল পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না। সেতুটি চালু হওয়ায় এ অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ ও গতিশীল হয়েছে।
সেতুটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর নান্দনিক নির্মাণশৈলী। ধামুরা খালের ওপর নির্মিত আর্চ আকৃতির সেতুটি দূর থেকেই নজর কাড়ে। সেতুর স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে খাল ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ মিলে তৈরি হয়েছে মনোরম দৃশ্য। বিশেষ করে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেতু ও আশপাশে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ লিটু মিয়া জানান, একসময় সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় সাতলা-বরিশাল সড়কে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এমনকি ধামুরা খাল পারাপারেও নানা ধরনের সমস্যা ছিল। সেতুটি নির্মাণের ফলে ওই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ-সংক্রান্ত দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে। একই সঙ্গে দৃষ্টিনন্দন সেতুটি এলাকার সৌন্দর্যও বাড়িয়েছে। এখন এটি শুধু যোগাযোগের অবকাঠামো নয়, উজিরপুরের একটি আকর্ষণীয় স্থাপনাতেও পরিণত হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা এবং নিরলস প্রচেষ্টায় সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সেতুটিকে ঘিরে পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধন, আলোকসজ্জা ও দর্শনার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হলে এটি উজিরপুরের অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে। এতে একদিকে যেমন এলাকার সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

