আপডেট: November 6, 2026
অনলাইন ডেস্ক:: কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলিতে নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য সৈনিক মো. তিতাস শেখের (২৮) লাশ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর প্রস্তুতি চলছে। তার মৃত্যুর খবরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নিহত তিতাস শেখ নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে।নিহত তিতাসের মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার ইনকিলাবকে জানান, লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করা হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে যথাযথ মর্যাদায় দাফন করা হবে।
তিনি আরো জানান, তিতাস অত্যন্ত ভদ্র ও নম্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। মাত্র তিন বছর আগে তার বিয়ে হয়েছিল। নতুন সংসার জীবন পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এমন মৃত্যুতে তার পরিবার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। শোক কোনোভাবেই সান্ত্বনা মানতে পারছেন না স্বজনেরা।আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে জিম্মি থাকা প্রায় ১২০ জনকে উদ্ধারে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। বিকেল ৫টার দিকে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা অতর্কিত গুলি ছোড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল গোলাগুলি শুরু হয়।
অভিযানকালে সেনাসদস্য তিতাস শেখের বাঁ কাঁধে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।আইএসপিআর আরো জানায়, ওই যৌথ অভিযানে জিম্মি থাকা ৫৭ জনকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল তল্লাশি করে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

