আপডেট: December 24, 2021
অনলাইন ডেস্ক:: টাঙ্গাইলে বিকাশের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের সময় সঙ্ঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে র্যাব। একই সঙ্গে অপহৃত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। এই বিষয়ে ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
টাঙ্গাইল র্যাব ১২ সিপিসি ৩ এর কোম্পানী কমান্ডার সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ২১ ডিসেম্বর সকালে একদল সন্ত্রাসী অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে টাঙ্গাইল সদর থানাধীন শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন মাইক্রো স্ট্যান্ড হতে সাবালিয়া তানযীমুল উম্মাহ মাদ্রাসার একজন শিক্ষককে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
র্যাব সদস্যরা গোয়েন্দা তৎপরতা ও অনুসন্ধান করে জানতে পারে ভিকটিম ও অপহরণকারীরা টাঙ্গাইল জেলার সদর থানার আকুর টাকুর পাড়া এলাকায় অবস্থান করছে। অপহরণকারীরা ভিকটিমকে নিয়ে বিভিন্ন স্থান পরিবর্তন করে এবং ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে মুক্তিপণের টাকার বিষয়ে দেন দরবার করে। অপহরণকারী চক্র অপহরণের টাকা বিকাশ এজেন্টর দোকানে গ্রহণ করার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরও ভিকটিমকে মুক্তি না দিয়ে, ভিকটিমকে নিয়ে বিভিন্ন স্থান পরিবর্তন করতে থাকে।
অপহরণকারীরা র্যাবের উপস্থিতি বুঝতে পেরে বুধবার (২২ ডিসেম্বর) টাঙ্গাইল জেলার রাবনা বাইপাস নামক এলাকায় ভিকটিমকে হাত, পা ও মুখ বাধা অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়।
পরে র্যাব সদস্যরা ভিকটিমকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ভিকটিম জানায় অপহরণ চক্রের ৮/১০ জন সদস্য অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাকে এক নারীর সঙ্গে অশ্লীল ভিডিও এবং ছবি তুলে রাখে এবং অনেক মারপিট করেছে এবং তার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে রাবনা বাইপাসে ফেলে রেখে পালিয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) র্যাব আবারও টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অপহরণকারীর মূল হোতা মো. রুবেল মিয়া (৩৩) ও তার সহযোগী মো. শাওন মৃধা (২৫) ও মো. আব্দুল আল মামুন (২০) কে গ্রেপ্তার করে। তাদের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলায়। অপহরণ চক্রের ৩ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানায় র্যাব।
এ অপহরণ চক্রটি দীর্ঘদিন যাবত টাঙ্গাইল শহরে নিরীহ মানুষদের অপহরণ করত এবং অপহরণকৃতদেরকে ঘরের ভিতর আটকে নারী সদস্যদের সঙ্গে অশ্লীল ভিডিও এবং ছবি তুলে রাখত ও অনেক মারপিট করত বলে আটককৃত অপহরণ চক্রের ৩ জন সদস্য স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি।

