আপডেট: December 15, 2021
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভুয়া ডিক্রি ও জাল দলিলের মাধ্যমে জমি আত্মাসাতের অভিযোগে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হাওলাদারসহ তার ৯ সহযোগীর বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এস.এম মাহফুজ আলম গত রোববার এই আদেশ দেন। এর আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দাড়িয়াল এলাকার নরেন্দ্র নাথ পাল তার পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে ৬ একর ২ শতাংশ জমির মালিক। চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম হাওলাদার নিলাম, ডিক্রি সূত্রে মালিকানা দাবি করে ২০১৬ সালে ওই জমি দখলের চেষ্টা চালান। পর খোঁজ নিয়ে নরেন্দ্র নাথ পাল জানতে পারেন, ২০১৫ সালে ৩ একর ৫৩ শতাংশ জমির জাল নিলাম ও ডিক্রি তৈরি করা হয়েছে। অবশিষ্ট জমি আত্মসাৎ করার জন্য নরেন্দ্র নাথ পালের ফুফু জয়া ও গীতা এবং জনৈক হোসেনের নাম ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে হানাদার বাহিনীর পুড়িয়ে দেওয়া সাতক্ষীরার ইসলামপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে সম্পাদিত ও রেজিস্ট্রিকৃত দেখিয়ে একটি জাল সাব কবলা দলিল সৃষ্টি করা হয়।
২০১৬ সালে চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ওই জমি স্থানীয় ভ‚মি অফিসে রেকর্ড সংশোধনের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। এ ঘটনায় ২০১৯ সালে শহীদুল ইসলামসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নরেন্দ্র নাথ পাল। সিআইডির পরিদর্শক মো. সেলিমা মিয়া অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে গত ১৪ সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেদন পাওয়ার পর শহীদুল ইসলামসহ অভিযুক্ত অপর ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন দেওয়া হলে হাজির না হওয়ায় রোববার তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
পুলিশের বাকেরগঞ্জ সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার সুদিপ্ত রায় সাংবাদিকদের জানান, চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলামসহ অন্যদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি তারা মৌখিকভাবে শুনেছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

