আপডেট: December 19, 2021
অনলাইন ডেস্ক:: যৌতুকের টাকা না পেয়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় খাস সাতবাড়িয়া গ্রামে গুলনাহার পারভীন মিনু (৩০) নামে এক গৃহবধূর ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেটে দেওয়া হয়েছে তার মাথার চুল, ব্লেড দিয়ে চেঁছে ফেলা হয়েছে দুই চোখের ভ্রু। হাত-পা ধরে অনুনয়-বিনয় ও কান্নাকাটি করার পরও অমানুষিক নির্যাতন থেকে রক্ষা পাননি ওই গৃহবধূ।
হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় গৃহবধূ সাংবাদিকদের বলেন, গবাদি পশুর মতো হাত-পা বেঁধে রাতভর তার সারা শরীরে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৩ ডিসেম্বর রাতে। এরপর তাকে আটকে রেখে হাতুরে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। পরে খবর পেয়ে মিনুর পরিবার মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আজ (রবিবার) সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৩ বছর আগে শাহজাদপুর উপজেলার খাস সাতবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে মেহেদি হাসান সুজনের (৪৩) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী তাড়াশ উপজেলা সদরের মৃত গোলাম মোস্তফার মেয়ে গুলনাহার পারভীন মিনুর (৩০) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের দুটি মেয়েসন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর থেকে স্বামী যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছেন। এ ছাড়া স্ত্রী সুন্দরী হওয়ায় তাকে বিভিন্ন সময় সন্দেহ করতেন সুজন।
দরিদ্র পরিবারের পক্ষে যৌতুকের টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেওয়া হলে নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এ ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার গ্রাম্য সালিস হয়েছে। তবুও থামেনি নির্যাতন। পরে নির্যাতন সইতে না পেরে ২০১৮ সালে বাবার বাড়ি ফিরে যান মিনু।
নির্যাতিতার মা আনোয়ারা খাতুন জানান, বিয়ের সময় জামাতাকে যৌতুক হিসেবে নগদ এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, খাট, আলমারিসহ প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল দেওয়া হয়। ছোট ছোট বাচ্চাদের কথা বিবেচনা করে আবার তাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
সিরাজগঞ্জের ফজিলাতুন নেছা মুজিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। তিনি আরো জানান, বিয়ের পর থেকেই কখনো নগদ টাকা, কখনো মোটরসাইকেল, কখনো মোবাইল ফোন বাবার বাড়ি থেকে এনে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। এ ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে কথা বললেই সন্দেহের চোখে দেখত স্বামী। বিভিন্ন সময় তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাত স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকেরা।
অভিযুক্ত মেহেদি হাসান সুজন বলেন, আমার স্ত্রী এক প্রবাসীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। আমি রাগ চেক দিতে না পেরে ঘটনা ঘটিয়েছি।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রোকন উদ্দিন বলেন, মেয়েটির সারা শরীরে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসা চলছে। তবে নির্যাতনের ফলে মেয়েটি মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত।

