আপডেট: জুন ২০, ২০২৬
তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:: বরগুনার তালতলীতে সাইবার অপরাধ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা করেছে থানা পুলিশ। নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা সাইবার হয়রানি ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা রোধে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টায় তালতলী থানা পুলিশের আয়োজনে এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর সহযোগিতায় উপজেলার আলীরবন্দর মোহাম্মদ মেনাজ উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে কমিউনিটি পর্যায়ে পুলিশ সার্ভিস ডেস্ক সেবা’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধ, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পুলিশ সার্ভিস ডেস্কের কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি সার্ভিস ডেস্কে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে সেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন, উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোঃ আনিসুল হক শানু এবং উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তালতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শরিফুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত থেকে আরও বক্তব্য রাখেন কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফজলুল হক বাচ্চু, কড়ইবাড়িয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. কবির আকন, কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জলিল শরিফ এবং জাগোনারী উইলি প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার (জেন্ডার) রাবেয়া মুন্নিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সভায় অংশ নেন।
সভায় বক্তারা মাদক, মোবাইল জুয়া, ইভটিজিং এবং নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের কারণে নারীরা নানা ধরনের সাইবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ওসি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে তালতলী থানা পুলিশ কাজ করছে। কোনো ভুক্তভোগী যেন হয়রানির শিকার না হয়ে দ্রুত আইনি সহায়তা পান, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সভায় শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং সাইবার অপরাধ থেকে নিরাপদ থাকার বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

