চরফ্যাশনে ইউপি চেয়ারম্যানকে জুতার মালা পরিয়ে ঘুরালেন বিক্ষুব্ধ জনতা

আপডেট: August 15, 2024

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ভোলা প্রতিনিধি:: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আবুবকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সিরাজ জমাদারকে মারধর করে জুতারমালা পরিয়ে বাজারে ঘুরিয়েছেন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) দুপরের দিকে ইউনিয়নের রৌদ্দেরহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুলারহাট থানা পুলিশ ও নৌ-বাহিনী গিয়ে স্থানীয়দের হাত থেকে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় রৌদ্দেরহাট বাজারের ইমাম মাওলানা মাইনুল ইসলামকে মারধরের ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাকসুদুর রহমান মুরাদ।স্থানীয়রা জানায়, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর আবুবকরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ জমাদার তার সন্ত্রাসী বাহিনীর পাহারায় নিজ বাড়িতেই ছিলেন। গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে সে তার সন্ত্রাসী বাহিনী ও অস্ত্র নিয়ে স্থানীয় রৌদ্দেরহাট বাজারে মহড়াও দিয়েছে। এমনকি সে স্থানীয় মানুষের কাছে বলেছেন, তাকে কেউ কিছু করতে পারবে না। এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষ তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তার অবস্থান পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সে বাড়িতে আছে খবর পেয়ে বাড়ির চতুর্দিক থেকে প্রায় সহস্রাধিক মানুষ গিয়ে তাকে ধরে আনে মারধর করে গায়ের জামা-কাপর খুলে ফেলে। পরে গলায় জুতারমালা দিয়ে স্থানীয় রৌদ্দেরহাট বাজারে এক থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে ঘুরাতে থাকে। পরে দুলাহাট থানা পুলিশ খবর পেয়ে নৌ-বাহিনীর সহায়তায়তাকে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে এবং গত জানুয়ারি মাসে স্থানীয় বাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা মাইনুল ইসলামকে মারধরের ঘটনায় একটি মামলার প্রস্তুতি নেয়।

রৌদ্দেরহাট বাজারের ব্যবসায়ী মো. হেলাল উদ্দিন জানান, আবুবকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ জমাদার টানা দুই মেয়াদে ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রথমবার ভোটে নির্বাচিত হলেও দ্বিতীয়বার কোনো প্রার্থীকে তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেয়নি। এমনকি যে প্রার্থীই তার বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে চেয়েছে তাকেই নিজের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এলাকা ছাড়া করেছেন। এছাড়াও চেয়ারম্যান সিরাজ স্থানীয় কয়েকজন মেম্বারসহ একটি সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি করেছেন। যার নাম দিয়েছেন সিরাজ বাহিনী। এ বাহিনীর অন্যতম সদস্যরা হলেন আবু তাহের মেম্বার, রন্টু মেম্বার, জহির, নাঈম, এমরান ও রনিসহ অন্তত ২০জন।

যে কেউ তার কোনো কাজের বিরোধিতা করলেই তার বাহিনী দিয়ে নির্যাতন চালানো হতো। তার এ নির্যাতন থেকে অন্য দল ও নিজ দলীয় লোকজনসহ স্থানীয় আলেম, মসজিদের ইমামসহ কেউ বাদ যেতো না। চেয়ারম্যানের অপকর্মের কারণে ইউনিয়নের প্রায় ৯০ শতাংশ লোক তার বিরুদ্ধে ছিলো। স্থানীয় মানুষ তার উপর ক্ষিপ্ত ছিলো। আওয়ামী লীগের পতন হওয়ায় স্থানীয়রা এ সুযোগে তাকে মারধর ও জুতার মালা পরিয়ে ঘুরিয়েছে।
দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান, আবুবকরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে নৌ-বাহিনীর সহায়তায় আমার স্থানীয়দের হাত থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসছি। গত জানুয়ারি মাসে স্থানীয় এক ইমামকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলার হলে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network