জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মবার্ষিকী আজ

আপডেট: May 25, 2021

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আপডেট নিউজ: কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। বিদ্রোহী কবি হিসেবেও পুরো বিশ্বে পরিচিত তিনি। তিনি আমাদের অহঙ্কার ও তারুণ্যের কবি, প্রেরণার কবি, উৎসের কবি, উদ্দীপনার কবি। আজ মঙ্গলবার ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, ২৫ মে ২০২১ তার ১২২তম জন্মবার্ষিকী।
জাতীয়পর্যায়ে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রতি বছর ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও এ বছর করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে না। তবে বিভিন্ন সংগঠন সংক্ষিপ্ত আকারে দিনটি পালন করবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার ছাড়াও বেসরকারি বিভিন্ন টেলিভিশন ও রেডিও কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে।
বৈচিত্র্যময় জীবনের অধিকারী কাজী নজরুল ইসলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে ১৮৯৯ সালের ২৫ মে, ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম কাজী ফকির আহমেদ এবং মাতার নাম জাহেদা খাতুন। পিতা-মাতার ষষ্ঠ সন্তান ছিলেন নজরুল। টানা চার ভাইয়ের মৃত্যুর পর জন্ম হওয়ায় জন্মের পর তার নাম রাখা হয় দুখু মিয়া।
বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান বলে শেষ করার মতো নয়। সাহিত্যের সব ক্ষেত্রে তার বিচরণ ছিল মুক্ত বিহঙ্গের মতোই। দেশপ্রেম, মহত্ত্ব, মনুষ্যত্ববোধ, মানুষের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসা জাগ্রত করা, পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থেকে পরাধীনতার বিরুদ্ধে লিখনী, ব্রিটিশ শাসকদের হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করেও ক্ষুরধার লেখনী অব্যাহত রাখা ইত্যাদি ছিল তার লিখনীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি ও একজন বাঙালি কবি, বিদ্রোহী কবি এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা।
১৯২০ সাল থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত তার সব রচনার সঠিক হিসাব পাওয়া না গেলেও মোটামুটি দুই হাজার ৮০০ গান, ৯০০ কবিতা, ১০০ প্রবন্ধ, ৫৫টি গ্রন্থ, ২৫টি নাটক, ১৮টি গল্প, ১৯৪টি গজল ও ইসলামী গান এবং ৪৫০টি শ্যামা সঙ্গীত রচনা করেন।
তিনি বাংলা সাহিত্য, কবিতায় সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ দু’বাংলাতেই তার কবিতা, গান ও গজল সমানভাবে সমাদৃত। তার কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাকে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তার কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ।
কবি, সাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ ও সৈনিক নজরুল সর্বদাই ছিলেন অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তার কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তার বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) ইন্তেকাল করেন নজরুল। কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
জন্মবার্ষিকীর আয়োজন
জাতীয়পর্যায়ে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রতি বছর ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও এ বছর করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে না। তবে এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘আমিই নজরুল আন্তর্জাতিক নজরুল উৎসব’। নজরুলের সাম্যবাদ নিয়ে এ আয়োজন করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সংগঠন ‘মুক্ত আসর’। উৎসবে বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও পর্তুগাল থেকে ৩২ জন নজরুল গবেষক, লেখক ও নজরুল সঙ্গীত শিল্পী অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার ছাড়াও বেসরকারি বিভিন্ন টেলিভিশন ও রেডিও কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী
রাষ্ট্রপতি : রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ বলেছেন, নজরুলের অবিনশ্বর উপস্থিতি বাঙালি জাতির প্রাণশক্তিকে চিরকাল জাগরিত রাখবে। বলিষ্ঠ লেখনীতে প্রকাশ পেয়েছে পরাধীনতা, সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান। ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি গেয়েছেন মানবতার জয়গান।
প্রধানমন্ত্রী : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কবি নজরুল তার প্রত্যয়ী ও বলিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে এ দেশের মানুষকে মুক্তি সংগ্রামে অনুপ্রাণিত ও উদ্দীপ্ত করেছিলেন। তার গান ও কবিতা সব সময় যেকোনো স্বাধীনতা আন্দোলনে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
নজরুল সাহিত্যের বিচিত্রমুখী সৃষ্টিশীলতা আমাদের জাতীয় জীবনে এখনো প্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কবি নজরুলের সাহিত্য ও সঙ্গীত শোষণ, বঞ্চনা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে মুক্তিরও দীক্ষা স্বরূপ। তার ক্ষুরধার লেখনীর স্ফুলিঙ্গ যেমন ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল, তেমনি তার বাণী ও সুরের অমিয় ঝর্ণাধারা সিঞ্চিত করেছে বাঙালির হৃদয়কে। তিনি প্রকৃতই প্রেমের ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি।’
এছাড়া নজরুলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠন বাণী দিয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কাজী নজরুল ইসলামের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, তিনি অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন। তার কবিতা ও গান আমাদের মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল এবং এখনো শোষণ-বঞ্চনা-অবিচার-অনাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রেরণা জোগায়।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া এক বাণীতে কবির প্রতি শ্রদ্ধ জানান। আজ সকাল ৮টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারে বাংলাদেশ ন্যাপের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও স্মৃতিচারণ করা হবে।
দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরাম
জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আজ বেলা ১১টায় সিলেট নগরীর রিকাবীবাজারস্থ নজরুল চত্বরে জমায়েত, শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network