বরিশালে কামড়ের দাগ নিয়ে মাদরাসাছাত্র হাসপাতালে, শিক্ষক জেলহাজতে

আপডেট: August 29, 2021

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল অফিস: বরিশালে মাদরাসার এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়িয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষককে আটক করেছে।

এর আগে শনিবার রাতে আহত ওই ছাত্রের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। শিশুটিকে ওই মাদরাসা থেকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নে এবং সদর উপজেলার একটি মাদরাসার শিক্ষক।

শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে শিশু সার্জারি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. একেএম মিজুনুর রহমান বলেন, শিশুটি পেছনে এবং দুই পা এবং ঘারের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। আঘাতের ধরন দেখে এবং শিশুটির কথা অনুযায়ী ধরণা করা হচ্ছে বিকৃত লালসা চরিতার্থে ব্যর্থ হয়ে এই ধরনের আঘাত করা হয়েছে। সে শারীরিকভাবে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠলেও মানসিকভাবে সুস্থ হতে অনেকটা সময় লাগবে।

শিশুটির বাবা জানান, ৮ বছরের ছেলেকে কয়েক মাস আগে সদর উপজেলার ওই মাদরাসার হেফজ খানার নাজেরানায় ভর্তি করানো হয়। গত বুধবার রাতে তার শিশুটিকে বলাৎকারের চেষ্টা করেন ওই শিক্ষক। এতে বাধা দিলে শিক্ষক তাকে মারধর করেন। এমনকি শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে জখম করার পাশাপাশি বুকের ওপর গ্যাসের সিলিন্ডার রাখাসহ বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন করেন।ঘটনাটি জানার পর বৃহস্পতিবার মাদরাসার পরিচালা কমিটির সভাপতিকে জানানো হয়। এতে ওই শিক্ষক আরো ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে পুকুরে চুবান, বুকের উপরে গ্যাসের সিলিন্ডার রেখে চাপ দেন এবং অশ্লিল আচরণ করেন। পরে শিশুটি অসুস্থ হলে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে শুক্রবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এমনটি জানালেন ভুক্তভোগীর বাবা।রায়পাশা-কড়াপুড় ইউানিয়নের সংরক্ষিত ২নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য খাদিজা বেগম বলেন, ‘ওই মাদরাসায় আমার এক নাতি একই ক্লাশে পরে। সে ঘটনাটি দেখে আমাদেরকে জানায়। পরে ওই ছেলেটির বাবাকে সঙ্গে নিয়ে তাকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। শিশুটির বাবা থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ ওই শিক্ষকে গ্রেপ্তার করে।’ এই ধরনের জঘন্যতম ঘটনার বিচার দাবি করেছেন এই জনপ্রতিনিধি।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমান বন্দর থানার ওসি কমলেস চন্দ্র হালদার জানান, প্রাথমিক তদন্তে ওই শিশুর শরীরে ভিন্ন স্থানে কামড়ের চিহ্নসহ নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। ওই শিশুর বাবা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মালায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে রবিবার জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network