বৈদেশিক টাকায় গৌরনদীতে হারিছকে পূণঃপ্রতিষ্ঠিার করার মিশনে ক্যাডার বাহিনী

আপডেট: September 2, 2026

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার :: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলার মুর্তিমান ত্রাস হিসেবে পরিচিত হারিছুর রহমান হারিছকে ফের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তার কতিপয় ঘনিষ্ঠ গ্যাংয়ের ক্যাডার বাহিনী। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা ওইসব ক্যাডাররা হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরব হয়ে তাদের গডফাদার হারিছুর রহমানের গুনকীর্তন গেয়ে পোস্ট করছেন। যা নিয়ে রিতীমতো ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অপরদিকে প্রবাসী লীগ সমর্থকদের কাছ থেকে কালেকশন করে বান্ডিল বান্ডিল টাকা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম ওরফে আকন আজাদের বিরূদ্ধে।

দানব হারিছুর রহমান হারিছ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা শাখার সদস্য, গৌরনদী উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার (হারিছ) কতিপয় কিশোর গ্যাংয়ের ক্যাডার বাহিনীর রাজনৈতিক অপতৎপরতায় সচেতন এলাকাবাসীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেও ব্যাপক আলোচিত একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগি হিসেবে নিজেকে বিভিন্নস্থানে পরিচয় দিয়ে হারিছুর রহমান সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম, অত্যাচার, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দলের সিনিয়র ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা, একক আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে সরকারি কাজের পার্সেন্টেজ আদায়, দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র মাদক ডিলারকে সেল্টার দেয়ার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে।
সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আত্মগোপনে চলে যায় হারিছুর রহমান হারিছসহ বিভিন্ন দল থেকে এনে প্রতিষ্ঠিত করা তার (হারিছ) ঘনিষ্ঠ কিশোর গ্যাংয়ের ক্যাডার বাহিনী। এরইমধ্যে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকার রামপুরা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে হারিছকে গ্রেপ্তার করে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ।
হারিছের বিরুদ্ধে গৌরনদী মডেল থানায় চাঁদাবাজি, হামলা-মারামারি এবং বিস্ফোরকদ্রব্য আইনসহ একাধিক গুরুত্বর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। ওইসব মামলায় গ্রেপ্তারের পর প্রায় ২১ মাস কারাগারে ছিলো কুখ্যাত দানব হারিছ। পরবর্তীতে চলতি বছরের ৮ জুলাই তিনি (হারিছ) আদালত থেকে জামিন নিয়ে অত্যন্ত সু-কৌশলে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হয়। বর্তমানে তিনি (হারিছ) বরিশালের এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার ছত্রছায়ায় আত্মগোপনে থেকে পুরনো আধিপত্য ফিরে পেতে তার কিশোর গ্যাংয়ের ক্যাডারদের ব্যবহার শুরু করেছেন। তবে এসব মামলায় কাকতালীয়ভাবে নাম জরায়নি হারিসের ডোনার ক্যাডার হিসেবে পরিচিত গৌরনদী সুইস হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রবাসী আ.লীগ নেতা আবুল কালাম আকন আজদ। বিএনপির দু’জন বড় নেতাকে ম্যানেজ করে তিনি এখনো রয়েছেন ধরাছোয়ার বাইরে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, গত ৮ জুলাই হাইকোর্ট থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে জামিনের আদেশ আসার পর অত্যন্ত গোপনীয়তা ও সতর্কতার মধ্যদিয়ে কারাগার থেকে হারিছুর রহমানকে বের করা হয়। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু ইউসুফ জানিয়েছেন, ১০টি মামলার মধ্যে আটটি মামলায় স্থানীয় আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন হারিছুর রহমান। পরবর্তীতে ৮ জুলাই বাকি দুইটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পান। জামিনের আদেশ কারাগারে আসার পর গোয়েন্দা সংস্থার ক্লিয়ারেন্সের ভিত্তিতে কারাগার থেকে তাকে (হারিছ) বের করা হয়।
সূত্রমতে, কারামুক্ত হওয়ার পর স্থানীয় রাজনীতিতে হারিছুর রহমান তার কতিপয় অনুসারী ও ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে পুনরায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য অপতৎপরতা শুরু করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও সচেতন মহলে এনিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। কারণ বিগত সময়ে হারিছ ও তার কিশোর গ্যাংয়ের বাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম, অত্যাচার, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রে আরও জানা গেছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই সাবেক সাংসদ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর অজান্তে তার ঘনিষ্ঠজন পরিচয় দিয়ে দানব হারিছুর রহমান ও তার ক্যাডার বাহিনী এমন কোন অপর্কম নেই যা করেননি। ওইসময় ভূক্তভোগীরা দানব হারিছুর রহমানের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। তবে ৫ আগস্টের পর হারিছ ও তার ক্যাডার বাহিনীর একের পর এক অপকর্মের অসংখ্য থলের বেড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করে।
দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি, দানব হারিছুর রহমান ও তার ক্যাডার বাহিনীর সকল অপকর্মের দায়ভার এখন অনায়াসেই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর উপর পরেছে। কারণ হাসানাত আব্দুল্লাহর অজান্তে তার ঘনিষ্ঠজন পরিচয়ে পুরো বরিশাল জেলাকে নিয়ন্ত্রন করতো দানব হারিছ। ওইসময় তার (হারিছ) প্রধান টার্গেট ছিলো দলের সিনিয়র ও ত্যাগী নেতাদের বিভিন্নভাবে কোনঠাসা করে একক আধিপত্য বিস্তার করা। দানব হারিছের খামখেয়ালীপনায় দলের অসংখ্য নেতারা ঘরমুখী হওয়ার সুযোগে তৎকালীন বিরোধীদল বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের দমনে মরিয়া হয়ে উঠেছিলো দানব হারিছ ও তার ক্যাডার বাহিনী।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রবীণ নেতারা জানিয়েছেন, গৌরনদী তথা বরিশালে হারিছ যুগের আগে সবদলের সহবস্থানের রাজনীতি চলমান ছিলো। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার প্রথমার্ধে হারিছুর রহমান প্রথমে গৌরনদীতে আগমন করে স্থানীয় তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর আস্থাভাজন হয়ে পুরো বরিশালের নিয়ন্ত্রন কর্তা হয়ে যায়। এরপর কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসীদের দিয়ে একটি গ্রুপ তৈরি করে হারিছ। ওই গ্রুপের মাধ্যমে নিজ দলের সিনিয়র নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে হেনেস্তাসহ হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও অসংখ্য মামলার আসামি বানিয়ে হয়রানী করে পুরো রাজনৈতিক মাঠ দখল করে রাখেন। এরপর থেকেই শুরু হয় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দমন-পীড়ন। ওইসময় দানব হারিছ ও তার ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। এরপর থেকেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় দীর্ঘবছরের সহবস্থানের রাজনীতির মাঠ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্বেই তৎকালীন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ চিকিৎসার জন্য ভারতে গমন করেন। তার কয়েকদিন পরেই আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচূত্য হওয়ায় তিনি আর দেশে ফেরেননি। কিন্তু এরইমধ্যে দানব হারিছের ভয়ঙ্কর সব তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হারিছের সাথে সবধরনের যোগাযোগ বিছিন্ন করে দিয়েছেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। যেকারণে সে (হারিছ) অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পরেছে। এমনকি হারিছ জামিনে বের হওয়ার পর থেকে ভারতে পালিয়ে গিয়ে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর সাথে দেখা করতে মরিয়া হয়ে উঠলেও এখনো সে ভারতে যেতে পারেনি।

দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ পূনগঠনের জন্য অত্যন্ত সু-কৌশলে কমিটি গঠনসহ একাধিক সভা অব্যাহত রয়েছে। বরিশালের ওইসব সভায় ফের দানব হারিছুর রহমান নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। যেকারণে তার (হারিছ) সেই পুরনো কিশোর গ্যাংয়ের ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে নিজেকে দলের বিশাল নেতা করে দাবি দানব হারিছকে ফের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রভাকান্ড ছড়িয়ে ফের রাজনৈতিক মাঠ উত্যপ্ত করা হচ্ছে। যেকারণে নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও।
সচেতন এলাকাবাসী শান্ত জনপথকে ফেসবুকের মাধ্যমে অশান্ত করে তোলা দানবখ্যাত হারিছুর রহমান হারিছ ও তার ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network