আপডেট: December 26, 2021
গাজীপুর প্রতিনিধি: ‘স্বামী মারা গেছে তিরিশ বছর আগে। ছেলেপুলে নাই। তিনডা ছেরি (মেয়ে)। সবারই খারাপ অবস্থা। একটা ছেরির ভাঙ্গা ঘরে তাহি (থাকি)। নিঃসন্তান ছেরিডা মাইনষের বাড়িত কাম কইর্যা আমারে খাওয়ায়। ওষুধ-পত্তর পাই না। অসুখে চিল্লাইয়া ডাহি (ডাকি), কেউ চাইয়া দেহে না। কত চেয়ারম্যান-মেম্বার আইল-গেল, কেউ সাহায্য করল না। আইজ আমার অনেক কদর। কোলে কইর্যা লইয়া যাইতাছে ভোট দেওনের লাইগ্যা।’
রবিবার নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের শিন্নিপাড়া ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সময় ফোঁপাতে ফোঁপাতে কম্পিতকণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন শতাধিকবর্ষী বৃদ্ধা মাসুমা বেগম (১০৫)।
মাসুমা বেগম ওই উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের পাঁচহাট (দুলোপুতা) গ্রামের মৃত রমজান আলীর স্ত্রী। বয়সের কারণে তাঁর শরীরের ত্বকের ভাঁজ সুস্ফষ্ট। চোখে ঝাপসা দেখেন। কানে শোনেন কম। হাঁটতে পারেন না। কথা বলতেও অনেক কষ্ট। প্রয়োজনে নিজে সাহায্য না পেলেও প্রতিবেশীর কোলে চড়ে ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন অন্যের উপকার করতে।
মাসুমার দ্বিতীয় মেয়ে কল্পনা বেগম (৭২) বলেন, আমার মার শত বছর পার হইছে। জমি-জমা না থাকায় সারা জীবন কষ্ট করছে। ত্রিশ বছর আগে মা বিধবা অইছে। এর পরও বিধবার কার্ড পায় নাই। কিছুদিন আগে একটা বয়স্কভাতার কার্ড পাইছে।

