আপডেট: June 27, 2020
অপহরণের তিন দিন পরে সাকিল মাদবর (১৫) নামে ৮ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার ভোরে জাজিরার পশ্চিম নাওডোবা এলাকা থেকে বালি চাপা দেয়া অবস্থায় জাজিরা থানা পুলিশ ওই স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে জাজিরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
নিহত মো. সাকিল মাদবর শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্বনাওডোবা হাজী কালাই মোড়ল কান্দি গ্রামের ছালাম মাদবরের ছেলে ও একই এলাকার অ্যাম্বিশন কিন্ডার গার্টেন অ্যান্ড হাই স্কুলের ৮ শ্রেণির ছাত্র।
শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুজ্জামান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল মামুন শিকদার, তানভীর হায়দার শাওন, জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম ইসলাম সরকার পিপি এম ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জাজিরা থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুন সাকিলকে ক্রিকেট খেলার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় প্রতিবেশী সাকিব ওরফে বাবু মাদবর ও ইমরান মোড়ল। এরপর সে আর রাতে বাড়ি ফেরেনি। ২৬ জুন বিকেলে সাকিব মোবাইল ফোন থেকে এস এম এস এর মাধ্যমে শাকিলের চাচা শাহাজুল ইলাম মাদবরের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে জাজিরা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে শুক্রবার এলাকা থেকে সাকিবকে বিকালে ও রাতে ইমরান মোড়লকে আটক করে জাজিরা থানা পুলিশ।
বাবু ও ইমরানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবার ভোরে জাজিরার পশ্চিম নাওডোবা এলাকার পদ্মা সেতুর রেলওয়ে প্রকল্পের নিকট থেকে বালি চাপা দেয়া অবস্থায় সাকিলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে লাশ প্রেরণ করে। নিহত শাকিলের গলায়, নাকে ও হাতের কনুইয়ে জখমের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনার পর সাকিলের পরিবার, সহপাঠি ও তার বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত স্কুলছাত্রের মা নুরজাহান বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমার নির্দোষ ছেলেকে যারা অন্যায়ভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে আমি তাদের শাস্তি চাই।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম সরকার পিপি এম বলেন, আমরা নিহতের চাচার দেখানো মোবাইল ফোনের এসএমএস’র সূত্র ধরে প্রথমে মোবাইল ট্যাকিংয়ের মাধ্যমে সাকিব ওরফে বাবু ও ইমরানকে আটক করি। তাদের দেওয়া তথ্য মতে শনিবার ভোরে সাকিলের মরদেহ উদ্ধার করি। এ ঘটনায় নিহতের বাবা সালাম মাদবর বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। আমরা বাকী আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।

