আপডেট: জুন ২১, ২০২৬
ভোলা প্রতিনিধি:: সম্পত্তির জন্য ভোলার চরফ্যাশনে এক ব্যক্তির লাশ দাফন নিয়ে তার চার স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ পাহারায় লাশ দাফন করা হয়। গতকাল শনিবার (২০ জুন) উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল জলিল পণ্ডিত বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাত ৩টার দিকে রসুলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল জলিল পণ্ডিত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পূর্বের চার স্ত্রীর ছেলে-মেয়েরা বাড়িতে এসে তাদের ওয়ারিশ ও পাওনা সম্পত্তির হিসেব দাবি করেন।
এ সময় জলিল পণ্ডিতের চতুর্থ স্ত্রীর ঘরের মেয়ে খাদিজা আক্তার স্মৃতি দাবি করেন, তার বাবার কোনো সম্পত্তি নেই এবং অন্য কেউ কোনো অংশ পাবে না।এই নিয়ে তাদের প্রথম দফায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
মৃত জলিল পণ্ডিতের চতুর্থ স্ত্রীর প্রাক্তন জামাতা খোকন অভিযোগ তোলেন যে, তার উপার্জিত সমস্ত টাকা-পয়সা এবং স্বর্ণালঙ্কার শ্বশুর ও স্ত্রী স্মৃতির কাছে গচ্ছিত ছিল, যা দিয়ে দুটি বসত ঘর ও জমি কেনা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালে তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে তাকে তালাক দিয়ে চলে যায়। তার সম্পদ বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লাশ দাফন করতে দেবেন না বলে ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা তাকে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে শান্ত করেন।
পরে লাশ দাফনের সময় পুনরায় দুই পক্ষের মাঝে বিরোধ বাধে। বড় তিন স্ত্রীর সন্তানদের দাবি—বাবা জীবিত থাকাকালীন ঘরের সামনে দাফন করার অসিয়ত করে গেছেন। অপরদিকে, চতুর্থ স্ত্রীর মেয়ে স্মৃতি দাবি করেন—লাশ বাড়ির বাইরে অন্য কোনো কবরস্থানে দাফন করতে হবে। এই নিয়ে দুইপক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হলে খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশি পাহারায় বসত ঘরের সামনেই লাশ দাফন সম্পন্ন হয়।এ বিষয়ে শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
তবে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

