আপডেট: February 21, 2024
ছবি: আপডেট নিউজ বিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ফজলু (২৬) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মনোহরপুর গ্রামস্থ ভৈরব নদের পাড়ে একটি পেঁপে বাগানে অচেতন অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং জানান হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ফজলু জীবননগর থানাধীন উথলী ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের স্কুলপাড়ার কাশেমের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি পোল ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকের কাজ করতেন পাশাপাশি পাখিভ্যানও চালাতেন।
নিহতের মা মনজুরা খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে মঙ্গলবার রাতে এশার আজানের পর বাড়ি থেকে পাখিভ্যান নিয়ে বের হয়ে যায়। সারারাত সে বাড়িতে না ফেরায় আমরা দুঃশ্চিন্তায় ছিলাম। সকালে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে খবর পায় মনোহরপুর গ্রাম থেকে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে আমার ছেলের লাশ দেখতে পায়। তিনি আরও বলেন, যেখান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেই মাঠে আমার ছেলের ১০ কাঠা মতো জমিতে ভুট্টার আবাদ রয়েছে। আমার ছেলের পাখিভ্যান ও কাছে থাকা মোবাইলটি এখনও পাওয়া যায়নি।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে হয়তো মেরে ফেলা হয়েছে।’ তবে তিনি কারণ জানাতে পারেন নাই।
নিহতের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে জানা যায়, ফজলুর এক ফুফাতো ভাই জব্বারও গত রাত থেকে এখন পর্যন্ত বাড়িতে ফেরেনি। জব্বার (৩২) একই গ্রামের দলির উদ্দিনের ছেলে। তাঁরা একই সাথে অন্যান্য দিন পোল ফ্যাক্টিরিতে যেতো। তবে তিনি মোবাইল না নিয়ে যাওয়ায় তাঁর সাথে পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করতে পারছে না। জব্বার বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সাথে করে এনআইডি কার্ড নিয়ে গেছে এবং জানিয়ে গেছে ট্রাকে হেল্পারের কাজ করবে। তবে তাঁরা প্রশাসনের কোনো বাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করতো কি না এবিষয়ে জানতে চাইলে পরিবার নিশ্চিত করে কোনো কিছু বলতে পারেনি। তবে তাঁরা সোর্সের কাজ করতো বলে এলাকায় জনশ্রতি রয়েছে।
খবর পেয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম জাবীদ হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।
আমিনুর রহমান নয়ন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।

