নতুনের বদলে পুরাতন বগি নিয়ে চলছে বেনাপোল এক্সপ্রেস, যাত্রীদের ব্যাপক ক্ষোভ

আপডেট: June 2, 2022

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

এম.এ.আর.নয়ন: দীর্ঘ কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি বেনাপোল-ঢাকা-বেনাপোল রুটে চলাচলকারী ৭৯৫/৭৯৬ বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের নতুন বগি/কোচ। ফলে পুরাতন বগি নিয়েই চলাচল করছে ট্রেনটি। নতুন বগি ফিরিয়ে না দেওয়ায় যাত্রী সাধারণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষের এটি নিয়ে কোন প্রকার মাথাব্যথা নাই। কে কি বললো তা নিয়ে তাদের কোনকিছু যায় আসে না। রেল কর্তৃপক্ষের এ ধরনের আচরণে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন ট্রেনটিতে যাতায়াতকারী যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলার যাত্রী সাধারণ।

বেনাপোল-ঢাকা রুটে সরাসরি কোন ট্রেন চলাচল না করায় ২০১৯ সালের ১৭ই জুলাই ওই রুটে ননস্টপ ট্রেন হিসেবে আন্ত:নগর বেনাপোল এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যশোরের বেনাপোল সীমান্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে ভারত এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে যাতায়াতকারী পাসপোর্টধারী নাগরিকদের কথা চিন্তা করে বেনাপোল থেকে সরাসরি ঢাকা রুটে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানিকৃত দেশের সর্বাধুনিক পিটি-ইনকা কোচের মাধ্যমে ট্রেনটি চালু হয়। প্রথমদিকে ননস্টপ হিসেবে চলাচল করলেও পরবর্তীতে ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলার কয়েকটি স্টেশনে ট্রেনটির স্টপেজ দেওয়া হয়। আর এতেই ট্রেনটি অতিদ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। এখনও ট্রেনটি উক্ত রুটে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে।

কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ভাইরাসটির সংক্রমণ ঝুঁকি ও বিস্তার প্রতিরোধে অন্যান্য গণপরিহন ও ট্রেনের সাথে সেই সময় বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটিরও চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সব ট্রেন চালু করা হলেও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি চালু করতে অনেক বিলম্ব হয়। অবশেষে গত বছরের ২রা ডিসেম্বর ট্রেনটি পুনরায় চালু করা হলে যাত্রী সাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু কেড়ে নেওয়া হয় পূর্বের অত্যাধুনিক বগিগুলো। তার বদলে দেওয়া হয় বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের পুরাতন এলএইচবি কোচ। নতুনের বদলে পুরাতন বগি দেওয়ায় বেনাপোল এক্সপ্রেসে যাতায়াতকারী যাত্রী সাধারণের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বেনাপোল এক্সপ্রেসের নতুন বগি দিয়ে চালানো হচ্ছে রাজশাহী-পঞ্চগড়-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী ৮০৩/৮০৪ বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস। প্রকৃতপক্ষে বাংলাবান্ধার সেই বগিগুলো ছিলো সিরাজগঞ্জ-ঢাকা-সিরাজগঞ্জ রুটে চলাচলকারী ৭৭৫/৭৭৬ সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের। সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসকে পূর্বের ভ্যাকুয়াম রেক দিয়ে তার থেকে নিয়ে নেওয়া হয় ভারত থেকে আমদানিকৃত এলএইচবি কোচ। আর তা দিয়ে চালু করা হয় বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস। পরবর্তীতে বাংলাবান্ধায় ব্যবহৃত সেই বগি বেনাপোল এক্সপ্রেসকে দিয়ে তার থেকে নিয়ে নেওয়া হয় ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানিকৃত সর্বাধুনিক পিটি-ইনকা কোচ। অর্থাৎ একটি ট্রেন চালু করতে যেয়ে দুটি ট্রেনকে পূর্বের তুলনায় তার আধুনিক বগি থেকে বঞ্চিত করা হলো।

সম্প্রতি বেনাপোল এক্সপ্রেসের পূর্বের বগি ফেরতের দাবিতে যশোর রেলস্টেশনে মানববন্ধন করেছে যশোরবাসী। ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাবাসীর সমর্থন রয়েছে তাদের দাবির প্রতি। উল্লেখ্য, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার রেলস্টেশনসমূহের উপর দিয়ে ঢাকাগামী ৩টি চলাচল করে। যার মধ্যে চিত্রা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলনা থেকে এবং বেনাপোল এক্সপ্রেস বেনাপোল থেকে যাত্রা আরম্ভ করে। উত্তরাঞ্চলে ঢাকাগামী সর্বাধুনিক একাধিক পিটি-ইনকা কোচের ট্রেন থাকলেও যশোর-চুয়াডাঙ্গা-পোড়াদহ-ঢাকা রুটে শুধুমাত্র বেনাপোল এক্সপ্রেসই পিটি-ইনকা কোচ নিয়ে চলাচল করতো। সেই কোচগুলোও নিয়ে নেওয়া হয়েছে। অচিরেই বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটির পূর্বের বগি ফেরত দেওয়া উচিত বলে মনে করেন ট্রেনটিতে যাতায়াতকারী যাত্রী সাধারণ। এ ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ করা রেল কর্তৃপক্ষের একেবারেই উচিত হয়নি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network