১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

হামে বরিশালে ৮ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ২০৬

আপডেট: মার্চ ৩১, ২০২৬

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল প্রতিনিধি:: সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।মৃত্যু ও আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি বিভাগের বরগুনা জেলায়। এখানে আক্রান্ত হয়েছে ৮০ শিশু আর মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। বরিশাল জেলা ও মহানগরীতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ জন, এ জেলায় মৃতের সংখ্যা একজন।ভোলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন, মারা গেছে দুই শিশু। ঝালকাঠিতে দুজনের মৃত্যুর পাশাপাশি আক্রান্ত ১৫ জন। পিরোজপুর ও পটুয়াখালীতে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও দুই জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬ জন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ‘বিভাগের সব জেলা ও উপজেলাগুলোতে হাম রোগীদের চিকিৎসায় বাড়তি সর্তকতা অবলম্বনের সঙ্গে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’এদিকে, সোমবার শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩য় তলার শিশু ওয়ার্ড ২ ও ৩ এ গিয়ে দেখা যায় ৭৮ বেডের ওয়ার্ডটিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৯৬ জন। কোনো কোনো বেডে দুই থেকে তিনজনও চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে হাম সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ২৬ জন।

একাধিক শিশুর অভিভাবকরা অভিযোগ করেন ওয়ার্ডটিতে একটি শয্যায় একাধিক শিশুদের হামসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেয়ায় একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই সংক্রমণ।

বরিশাল জেলার বানারীপাড়ার বাঘপুর ইউনিয়নের ধারালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আহমেদ আলী। গত ২১ মার্চ তার দশ মাসের শিশু সন্তান ওমর ফারুক টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে ভর্তি করেন ৩য় তলার ওই শিশু ওয়ার্ডটিতে।

তিনি অভিযোগ করেন, তার সন্তানের বেডে আরও দুইজন শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়। তাদের মধ্যে থেকে এই হাম সংক্রমণ ছড়িয়েছে।অপরদিকে জেলার বাবুগঞ্জের কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব কেদারপুরের বাসিন্দা কৃষক আজিজুল হাওলাদারের ৭ মাস বয়সী শিশু সন্তান আয়েশাকে প্রচণ্ড জ্বর আর শরীরজুড়ে লাল ফুসকুড়ি নিয়ে গত ১২ মার্চ শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

আজিজুল জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পরে শিশুটি হাম সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে দিন বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে শিশুটির অবস্থা আরও অবনতি হচ্ছে। চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন যত দ্রুত সম্ভব ঢাকায় শিশুটির চিকিৎসা করাতে। তবে অর্থের অভাবে শেবাচিম হাসপাতালই তার শেষ ভরসা।

এদিকে শয্যা সংকট আর সংক্রমণ ঠেকাতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২য় তলার শিশু ওয়ার্ডের একটি আলাদা কক্ষে চালু করেছেন ১৬ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড।হাসপাতালটির উপ-পরিচালক ডা. ‍এ. কে. ‍এম নজমুল ‍আহসান জানান, সংক্রমণের হার দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় একটি আলাদা কক্ষে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর জ্বরকে প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে করে অভিভাবকরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়ায় এর প্রকোপ বেড়েছে। এই রোগে আক্রান্ত একটি শিশুর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ জন সংক্রমিত হতে পারে। কোনো শিশুর মধ্যে যদি জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল, গলা ব্যথা, মুখে ক্ষত ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা গেলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিতে হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network