২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

শিরোনাম
পাথরঘাটায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫ দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষতি ১৫ লাখ টাকা কলসকাঠী বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হলেন আবুল হোসেন সিকদার কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের চাকরির সুখবর দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় গৌরনদীতে যৌতুক বাল্য বিবাহ নারী নির্যাতন অনুষ্ঠান সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের দুঃখ প্রকাশ জামায়াতপন্থি ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ আমতলীতে ডিজিটাল ভূমি জরিপে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, শতাধিক কৃষকের মানববন্ধন বিসিসির পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদেরকে রেইনকোট উপহার জীবননগরে গাঁজাসহ আটক ৩, ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুজনের কারাদণ্ড

৪ দিনেই শাহজালাল মাজারে মিললো ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা

আপডেট: জুন ২২, ২০২৬

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

অনলাইন ডেস্ক:: সিলেটের ঐতিহ্য, আবেগ আর শ্রদ্ধার কেন্দ্রবিন্দু হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যিনি সাহসী ভূমিকা নিয়েছিলেন, সেই চেনা মানুষটিই বিদায়ের আগে শেষবারের মতো নিজের দায়িত্ব পালন করলেন।
বদলির আদেশ মাথায় নিয়েও কর্তব্যে বিন্দুমাত্র ঢিল দেননি সিলেটের সদ্য সাবেক জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সিলগালা করা মাজারের ৩টি ডেগ ও দানবাক্সগুলো চার দিন পর আজ সোমবার (২২ জুন) তার উপস্থিতিতেই খোলা হয়েছে। আর মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে এই দানবাক্সগুলো থেকে মিলেছে নগদ ১৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৯ টাকা, ৭ আনা সোনা এবং ১০ সৌদি রিয়াল।

সোমবার জোহরের নামাজ মাজার মসজিদে আদায় করেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। নামাজ শেষে বেলা ঠিক ২টার দিকে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সেই সিলগালাকৃত ডেগ ও দানবাক্সগুলোর তালা খোলা হয়। সেখান থেকে বেরিয়ে আসে ভক্ত ও সাধারণ মানুষের ভক্তি-শ্রদ্ধার নজরানা—বস্তাভর্তি টাকা। এরপর অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সেই টাকাগুলো গণনার জন্য নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘জেলা প্রশাসক স্যারের উপস্থিতিতেই আজ মাজারের ডেগ ও দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে এবং গণনা শেষে প্রাপ্ত অর্থের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করা হয়েছে।’

মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাবে স্বচ্ছতা আনতে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগটি ছিল বেশ সাহসী এবং প্রশংসিত। ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ জুন (শুক্রবার), যখন জেলা প্রশাসক প্রথম মাজার পরিদর্শনে যান এবং মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দানবাক্সগুলোতে তালা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর এক সপ্তাহ পর ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লার নেতৃত্বে মাজারের ঐতিহ্যবাহী ৩টি বড় ডেগ সিলগালা করা হয়। একই সাথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বড় প্রধান দানবাক্সসহ বেশ কিছু ছোট ছোট দানবাক্স স্থাপন করা হয়।

এই পুরো উদ্যোগের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় মাজার প্রাঙ্গণে মোতায়েন করা হয় আনসার সদস্য এবং বসানো হয় সিসিটিভি ক্যামেরা। ডিসি সারওয়ার আলমের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ পুরো সিলেটে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলে।

ঠিক যখন মাজারের এই সংস্কার উদ্যোগটি আলোর মুখ দেখছিল, তখনই আসে তার বদলির আদেশ। রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।

বদলি বা প্রত্যাহারের এই খবর সিলেটের সাধারণ মানুষ ও তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের কিছুটা বিষণ্ণ করলেও, বিদায়ের আগের মুহূর্তেও শাহজালাল (রহ.) মাজারের প্রতি নিজের নেওয়া দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে শেষ করে অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন এই কর্মকর্তা। মাত্র ৪ দিনে ১৭ লাখেরও বেশি টাকা পাওয়ার এই ঘটনা প্রমাণ করে, সঠিক তদারকি থাকলে মাজারের আয়ে কত বড় ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। সিলেটের মানুষ হয়তো এই ‘স্বচ্ছতার কারিগর’কে সহজে ভুলবে না।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network