বরিশালে স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ নিয়ে রহস্য

আপডেট: December 15, 2020

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল সদর উপজেলার দিনার এলাকায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন রহস্য দানা বেঁধেছে।  পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বললেও মারা যাওয়া ছাত্রী হেলেনা আক্তার মুন্নির স্বজনরা দাবি করেছেন, এটি হত্যাকাণ্ড। এমনকি ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলেও সন্দেহ তাদের।বন্দর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেছেন, আমরা কোনোকিছুই উড়িয়ে দিচ্ছি না।  লাশ ময়নাতদন্ত শেষে রোববার সন্ধ্যার পর ওই গ্রামে দাফন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই উদঘাটন হবে আসলে কী ঘটেছিল।এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দাখিল করেনি বলেও জানান ওসি আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আমরা মারা যাওয়া মুন্নির মা-বাবাকে জিজ্ঞাসা করেছি। কিন্তু তারা বলেছেন, কারও বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ নেই। তাহলে আমি মামলা নেব কীভাবে?জানা গেছে, সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দিনার গ্রামের ফারুক খানের বাসায় ভাড়া থাকতেন নিহত মুন্নির পরিবার। তার পিতা হেলাল হাওলাদার দিনার বাজারে রিকশার গ্যারেজে কাজ করতেন এবং মা রেনু বেগম বরিশাল শহরের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী কোম্পানিতে (এমইপি) ঝিয়ের কাজ করতেন। প্রতিদিন সকালে তারা কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গিয়ে বাসায় ফিরতেন রাত ৯টার দিকে।  ততক্ষণ মুন্নি তার ৮ বছর বয়সী ছোটবোনকে নিয়ে এ সময়টা কাটাত। কিন্তু ঘটনার দিন সন্ধ্যায় খালার বাসায় যায় ছোটবোন। মুন্নিরও যাওয়ার কথা ছিল।

 

মুন্নির মা রেনু বেগম বলেছেন, মুন্নি আত্মহত্যা করেনি।  তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।  আত্মহত্যা করলে লাশ ঝুলবে। কিন্তু তার হাঁটু ভাজ হয়ে মাটির সাথে লেগেছিল।মুন্নির নানী আমেনা বেগম বলেন, লাশ নামানোর পর ওর গোপনাঙ্গে আমি রক্ত দেখেছি। তার শরীরে কাদা মাখানো ছিল। ঘরে তো কোথাও কাদা নেই। তাহলে তার শরীরে কাঁদা আসবে কোথা থেকে?

তিনি বলেন, ঘরের পেছনে একটি শুকনো নালায় (পানি চলাচলের গ্রাম্য পদ্ধতি) মুন্নির পায়ের দাগ আর তার সামনে একজোড়া জুতার দাগ রয়েছে। কেউ ওকে (নিহত মুন্নি) ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছে বা ধর্ষণ করেছে। মুন্নি পালানোর চেষ্টা চালিয়েছে।  সেখান থেকে ধরে এনে খুন করে ঝুলিয়ে রেখেছে।মুন্নির পিতা হেলাল হাওলাদার বলেন, মুন্নির লাশ যেখানে ঝুলছিল তার পাশে টেবিলের ওপর ভাত ও এক কাপ চা ছিল। আত্মহত্যা করলে ওর হাত-পা ছোড়াছুড়িতে ভাত, চা পড়ে যেত। পায়ের কাছে একটি পাটার উপর পুঁতা (মরিচ পেষার দেশীয় যন্ত্র) দাঁড় করানো ছিল। তাতে মুন্নির পা লেগেছিল। যদি সে আত্মহত্যা করত তাহলে মৃত্যুর যন্ত্রণায় তার হাত-পায়ের ছোড়াছুড়িতে পড়ে যেত। তাছাড়া ঘরের দরজা পুরোপুরি খোলা ছিল।

প্রসঙ্গত, শনিবার রাত ১১টায় দিনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী হেলেনা আক্তার মুন্নির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network