আপডেট: September 20, 2021
অনলাইন ডেস্ক:: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিজ বাড়ির উঠান থেকে দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামের এক ব্যবসায়ীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় জব্দ করা হয় পাশে পড়ে থাকা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকুও।সোমবার ভোরে উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের মাধবদী মধ্যপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ির উঠানে কে বা কারা গলা কেটে হত্যা করে ফেলে রাখে তিন সন্তানের জনক ওই ব্যবসায়ীকে।
দেলোয়ার হোসেন মাধবী মধ্যপাড়া গ্রামের মো. সিরাজ মিয়ার বড়ছেলে।
নিহতের স্ত্রী আলপনা (২৫) জানান, রাতে খাবার খেয়ে তারা এক সঙ্গেই ঘরের বারান্দার কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। শেষ রাতে হঠাৎ চিৎকারের শব্দ শুনে বাড়ির পাশের উঠান সংলগ্ন স্থানে গিয়ে দেলোয়ারকে গলাকাটা রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করতে দেখতে পান। এ সময় তার চিৎকার শুনে শ্বশুর-শাশুড়ি ছুটে আসেন। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তার।
নিহতের স্ত্রী ও ছোটভাই মনির বলেন, দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘ দিন যাবত মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায়ই তিনি আত্মহত্যা করতে চাইতেন।
তারা আরও জানান, দেলোয়ার হোসেনের ব্যবসায় ৩০ লাখেরও বেশি টাকা বাকি পড়ে আছে। এছাড়া ২০ লাখ টাকার মতো ঋণ হয়ে পড়ায় খুবই টেনশনে ছিলেন তিনি।
তবে নিহতের বাবা সিরাজ মিয়া জানান, দেলোয়ার পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকার একটি ব্যাগ তৈরির কারখানার মালিক। সে গত শনিবার দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার একদিন পর নিজ ঘরের সামনে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। তার ব্যবসায়িক কোনো বড় ধরনের আর্থিক দেনা ছিল এমন কিছু তিনি জানেন না, এমন কিছু হলে ছেলে অন্তত তাকে জানাতেন।
এলাকাবাসী সূত্র জানা যায়, দেলোয়ার আর্থিকভাবে ভালো সচ্ছল ছিল এবং ব্যবসায়িক অবস্থা ভালো চলছিল। তিনি কয়েক মাস পূর্বেও ১২-১৪ লাখ টাকা দিয়ে জায়গা খরিদ করেন।
কুলিয়ারচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রকৃত কারণ জানা যেতে পারে। এ বিষয়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

