আপডেট: August 30, 2026
বরগুনা প্রতিনিধি:: বরগুনার তালতলীতে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৬০ বছরের এক বৃদ্ধাকে মো. বশির মিয়া (৩৮) নামের এক যুবক ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী বৃদ্ধা নিজে।পরে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত বশির মিয়াকে আটক করে সুপারি গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশে ঘটনাস্থলে এসে বশিরকে থানায় নিয়ে যায়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে তালতলী উপজেলার নলবুনিয়া কিল্লা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।আটক বশির মিয়া উপজেলার মরানিদ্রা গ্রামের নয়া মিয়ার ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে বশির মিয়া বাঁশ কিনতে উপজেলার নলবুনিয়া কিল্লা এলাকায় যায়। ওই এলাকায় ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে বাঁশ কাটতে একটি দা দরকার বলে বৃদ্ধাকে জানান তিনি। কিন্তু ঘরে দা না থাকায় বৃদ্ধার সঙ্গে থাকা নাতনিকে অন্য বাড়িতে দা আনতে পাঠানো হয়। এ সুযোগে বশির ভুক্তভোগী বৃদ্ধাকে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখায়।
কিন্তু বৃদ্ধা তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে এমন অভিযোগ ওই বৃদ্ধার।ঘটনার সময় ওই বৃদ্ধার ডাক-চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে আসে। তখন অভিযুক্ত বশির পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে সুপারি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে তালতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে বশিরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়রা জানান, বৃদ্ধা নারীর ডাক চিৎকার শুনে এসে দেখি বশির দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। তখন আমরা তাকে ধাওয়া করে ধরে গাছের সাথে বেঁধে রাখি। পরে পুলিশ এসে থানায় নিয়ে গেছে।
কান্নাজনিত কণ্ঠে ওই বৃদ্ধা নারী বলেন, মোর আর মান-ইজ্জত কিছুই রইল না। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি ভাতা দেওয়ার কথা বলে জোরপূর্বক আমার সর্বনাশ করছে। আমি ওর বিচার চাই।
অভিযুক্ত মো. বশির মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলেছি, কিন্তু তার সঙ্গে খারাপ কোনো কাজ করিনি।তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, বাঁশ কেনার কথা বলে বৃদ্ধা এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক ঘটনার অভিযোগে মো. বশির মিয়া নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। ওই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলমান।

