আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
শামীম মীর গৌরনদী:: বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য এম. জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সকল ধর্মের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করব।
গৌরনদীর এই মাটিতে জন্ম নেয়া যোগেন মন্ডল পাক ভারত উপমহাদেশের জহরলাল নেহেরু নেহেরুর মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ছিলেন, উনি সরোয়ারদীর মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ছিলেন, উনি শেরে বাংলা ফজলুল হকের মন্ত্রিসভার মন্ত্রী ছিলেন। পাকিস্তান হবার পরে কংগ্রেসের সাথে রাগারাগি করে উনি পাকিস্তানে গিয়ে পাকিস্তানের স্পিকার হয়েছিলেন। মোহাম্মদ আলী জিন্না এবং যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলকে নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক পাকিস্তান করার কথা ছিল। আমি খুব গর্বের সাথে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় বলি যে, আমি যোগেন মন্ডলের উত্তরাধিকার। উনি যে এলাকার প্রথম নির্বাচিত এমপি ছিলেন আমি সেই এলাকার এমপি ছিলাম। এই কথা আমি যখন দেশের বাইরে বলি, তখন ওনার কারণে তারা আমাকে চিনতে পারেন, অথবা ওনার কারণে আমাকে সমীহ করেন। যোগেন্দ্র নাথ মন্ডলকে ঘিরে আগামীতে এখানে আমরা একটা ঐতিহ্য চর্চার জায়গা তৈরি করব।
অবিভক্ত বাংলার সমবায় ও ঋণদান মন্ত্রী, অবিভক্ত বাংলার আইন ও বিচার মন্ত্রী, পাক-ভারত কেন্দ্রীয় সরকারের আইন ও শ্রম মন্ত্রী, মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের জন্ম ভিটা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মৈস্তারকান্দিতে তার ১২৩ তম জন্মজয়ন্তী উৎসব উদযাপনে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন।
মহাপ্রাণ যোগন্দ্রনাথ স্মৃতি পরিষদ বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী ওই কর্মসূচীর আয়োজন করে।
মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল স্মৃতি পরিষদের সভাপতি ও যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল এর নাতি মন্টুলাল মণ্ডল অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়া, বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম কাজল, টরকী বন্দর বণিক সমিতির শরীফ শাহাবুব হাসান, গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহির, সাবেক সভাপতি খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনির, মোঃ গিয়াস উদ্দিন মিয়া, আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক কার্তিক চন্দ্র বেপারী, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী নেতা মনোজ কুমার গোমস্তা।
ব
ক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ সরদার, মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মনোতোষ সরকার, বার্থী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক হাওলাদার।
ওই অনুষ্ঠানে এম. জহির উদ্দিন স্বপন আরো বলেন, নিম্ন বর্ণের হিন্দুদেরকে তৎকালীন সময় ভারতের উচ্চবর্ণের হিন্দুরা প্রশ্রয় দিত না। জিন্নাহর কথা ছিল পাকিস্তানে তাদেরকে সমান মর্যাদা দিবে। মুসলমানরা নামাজ পড়ার সময় যেমন সবাই মিলে সমান কাতারে দাঁড়িয়ে যায়, তেমনি সবাই মিলে সমাজেও সমান কাতারের সমাজ তৈরি করবে। কিন্তু হিন্দু ধর্মে বর্ণ প্রথার কারণে সবার অবস্থান সমান থাকে না। তাদের চতুরবর্ণের কারণে কেউ উঁচু, কেউ নিচু,কেউ অচ্ছূত, কেউ নমঃ শূদ্র, এই ব্যবধানটা দূর করার জন্য যোগেন মন্ডল, ডক্টর ওমেদকার তারা সারা জীবন লড়াই করেছে। এরকম একজন মহামানুষ আমাদের এলাকার সন্তান হওয়ার কারণে আমরা অত্যান্ত গর্বিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই প্রজন্মের মানুষ যোগেন মন্ডল সম্পর্কে জানেনা। তার চিন্তা-চেতনা, জ্ঞান, তার ত্যাগ-তিতিক্ষা সম্পর্কে তারা জানে না। এমনকি পাক-ভারত উপমহাদেশে সে যে কত বড় প্রভাবশালী নেতা ছিল তাও কিন্তু খুব ভালো করে জানে না। আমি চিন্তা করেছি যদি ভবিষ্যতে সুযোগ পাই এই এলাকার সমস্ত তরুণ প্রজন্মের কাছে যোগেন মন্ডলের এই মহান কৃতিত্বকে তুলে ধররে তাদেরকে ভবিষ্যতের পথ দেখাবো। যোগেন মন্ডল যেই চিন্তা থেকে উচ্চবর্ণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সেই দিন সরোয়ার্দির মন্ত্রী পরিষদে যোগ দিয়েছিলেন। সেদিন পাকিস্তানে গিয়েছিলেন ডক্টর ওমদকারের নেতৃত্বে সেদিন ভারতের সংবিধানে সমান অধিকারের কথা বলেছিলেন। সেই কারণেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবেন।
যোগেন মণ্ডল মনে করতেন স্রষ্টার সৃষ্টি হচ্ছে সব মানুষ। স্রষ্টাকে পাওয়ার জন্য কে মসজিদে যাবে , কে মন্দিরে যাবে, কে পাহাড়ে যাবে, কে গুহায় যাবে, কে ধ্যান করবে, এটা তার ব্যাপার। স্রষ্টা একজন, আর সব তার সৃষ্টি। যোগেন মন্ডলের এই মানব কল্যাণ মানবতাবাদী ধর্মকে যারা অস্বীকার করেছে তারা বলেছেন “না”। কেউ অস্পৃশ্য, কেউ উচ্চ বর্ণ, কেউ নিম্ন বর্ণ। মানুষের মধ্যে ভাগাভাগি করে একটা বিভেদ তৈরি করে গিয়েছেন। আজকেও আমরা দেখি একদল লোক ধর্মের নামে বিভেদ তৈরি করে। হিন্দু ধর্মে অধিকার সবার সমান। যে যেমন কায়দায় ধর্ম পালন করবে। একজন মুসলমানের মসজিদে যাওয়ার অধিকার যেমন, একজন হিন্দুর মন্দিরে যাওয়ার অধিকারও তেমন। একজন খ্রিস্টানের গির্জায় যাওয়ার অধিকারও ঠিক তেমন। কেউ আমরা কেউ কাউকে ধর্ম পালনে বাধা দিতে পারি না। কেউ কাউকে বাধা দেয়ার মানেই হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার বিরোধিতা করা। কারণ ধর্ম চর্চাতো মানুষ করে সৃষ্টিকর্তাকে পাওয়ার জন্য। তাই আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সকল ধর্মের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করব।

