বরিশালে ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাল বরিশাল নগরবাসী,পুলিশ বলছে গুজব

আপডেট: December 7, 2022

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আপডেট নিউজ:: বরিশাল নগরীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে মধ্যরাতে মসজিদের মাইক থেকে একযোগে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিনের এ ঘোষণায় পুরো বরিশাল জেলাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কোনো কোনো এলাকার মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে পাহারা দিতে রাস্তায় নেমে পড়েন। রাত জেগে চলে এ পাহারা।

অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ডাকাতের গুজব ছড়ানো হয়েছে। বরিশালে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে গুজবে কান দিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তারা জানায়, বরিশালের কোথাও ডাকাতি হয়নি।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এস এম সাইফুল ইসলাম বলেন, মধ্যরাতে মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে একটি চক্র এ গুজব ছড়িয়েছে। এতে কান দিয়ে মানুষ যেন আতঙ্কিত না হয়, সে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। কেন, কারা এই গুজব ছড়িয়েছে তা চিহ্নিত করার জন্য পুলিশ প্রশাসনসহ গোয়েন্দা বিভাগ কাজ করছে। পাশাপাশি নগরীর মোড়ে মোড়ে টহল পুলিশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে।

বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলা শহরসহ গ্রাম-গঞ্জে এমন মাইকিং হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। জেলার সব উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ টহল বৃদ্ধি করেছি। আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহেল মারুফ এ বিষয়ে বলেন, কোথাও কোনো ডাকাতির স্পষ্ট তথ্য পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কাছে নেই। তবে এলাকায় এলাকায় মাইকিং হয়েছে, এটি সত্য। তিনি বলেন, আমার ধারণা, মাইকিংয়ের বিষয়টি পরিকল্পিত। এটি একটি গুজব। গুজবে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) রাত ১০টার পর বাবুগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি মসজিদ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, ‘এলাকায় ডাকাত ঢুকেছে এবং ডাকাত প্রতিরোধের জন্য যার যা কিছু আছে, তা নিয়ে বাইরে বের হয়ে আসার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ’ পরবর্তী সময়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার পর থেকে জেলার ১০টি উপজেলা এবং বরিশালের ৩০টি ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লার মসজিদের মাইকে ইমাম ও মোয়াজ্জিনরা প্রায় একযোগে ‘এলাকায় ডাকাত প্রবেশ করেছে, আপনারা সতর্ক থাকুন’-এ ঘোষণা দিতে থাকেন। ঘোষণা শোনার পরপরই গোটা বরিশালের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটিখানার বাসিন্দা শামীম হোসেন বলেন, রাত সোয়া ১টার দিকে সেনিয়া মসজিদ থেকে ডাকাত পড়েছে এমন ঘোষণা শুনতে পাই। এর পরক্ষণেই জোড় মসজিদ, ইসলামিয়া কলেজসহ বাসার আশপাশের বেশ কয়েকটি মসজিদ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জুয়েল মাহমুদ বলেন, মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার ঘোষণার পরপরই ওয়ার্ডের টেক্সটাইল মোড়, পুরাতন ময়লাখোলা এলাকায় মানুষ লাঠিসোঁটা হাতে রাস্তায় নেমে পড়ে।

ভাটিখানার জোড় মসজিদ এলাকার মীর মোহাম্মদ মাইনুল বলেন, মসজিদ থেকে ডাকাত পড়ার ঘোষণার পরই এই এলাকার মানুষ জোড় মসজিদ এলাকার চৌরাস্তায় জড়ো হয় এবং সারা রাত পাহারা দেয়।

৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামরুজ্জামান বলেন, ১টার দিকে বাসার আশপাশের সব মসজিদ থেকে ডাকাত পড়েছে বলে ঘোষণা আসে। এ ঘোষণায় কিছুটা ঘাবড়ে যাই।সিটি করপোরেশন সংলগ্ন উপজেলা বাবুগঞ্জের বাসিন্দা আল আমিন জানান, রাত ২টার দিকে বাবুগঞ্জের বিভিন্ন মসজিদে ডাকাত এসেছে মর্মে মাইকিং করা হয়। উপজেলার সবাই আতঙ্কিত হয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। এ ছাড়া উজিরপুর, বানারীপাড়ার কিছু অংশ, বরিশাল সদর উপজেলাসহ জেলার ১০ উপজেলায়ই একই ধরনের মাইকিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে প্রচার চালান।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network