আপডেট: August 29, 2020
অস্বাভাবিক জোয়ার ও বন্যার কারণে বরিশাল জেলায় মৎস্য, কৃষি, বাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ১৮ আগস্ট থেকে অমাবস্যা তিথি, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে অতিবর্ষণ ও অতিরিক্ত জোয়ারের ফলে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে করে ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয় বিভিন্ন স্তরের মানুষ।কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ফলে ২১ হাজার ৮২০ হেক্টর ফসলি জমির রোপা আমন, উফসী আমন, আমন বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজি, পানের বরজ বিনষ্ট বা আংশিক নষ্ট হওয়ার ফলে আনুমানিক ১৩ দশমিক ৯৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় পোল্ট্রি খামার ও ডেইরি খামারসহ ৯০ হাজার গরু, ছাগল, মহিষ এবং ৬ লক্ষ ৮০ হাজারটি হাঁস, মুরগি প্রভৃতি গবাদিপশু ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।এদিকে মৎস্য বিভাগে অতিরিক্ত পানির কারণে জেলার ১০ হাজার ১০১টি ঘেরের আনুমানিক ৩৮ দশমিক ০৩ কোটি টাকার মৎস্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ৫১০ মিটার বাঁধ ও ২৬০ মিটার নদী ভাঙন হয়েছে জেলায়।অতিবর্ষণ ও অতিরিক্ত জোয়ারের ফলে জেলার ১২টি প্রাথমিক ও ২৫টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ৩৮৩ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা গ্রামীণ রাস্তাঘাট আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, অস্বাভাবিক জোয়ার ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সদর উপজেলার ৫শতাধিক পরিবারকে সহায়তা করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য উপজেলায় দুস্থ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

