আপডেট: April 5, 2026
আমিনুর রহমান নয়ন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
অবৈধপথে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় এনে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে জীবননগর থানা পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে প্রতারণার শিকার হওয়া ৪ শিশুসহ ৮ জন বাংলাদেশী নাগিরককে। উদ্ধার হওয়া ওই ৮ জন নড়াইলের লোহাগড়া থানার দোহা মল্লিকপুর গ্রামের পূর্বপাড়ার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় গ্রেফতার দুজন হলেন- জীবননগর থানার বেনীপুর গ্রামের মাঠপাড়ার জুনুর উদ্দিনের ছেলে ইসরাফিল (৩২) এবং কাউসার আলীর ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (৪০)।
শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে জীবননগর উপজেলার বেনীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভিকটিমদের মধ্যে কয়েকজন পূর্বে অবৈধভাবে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বসবাস করতেন এবং আনুমানিক ৭/৮ মাস পূর্বে সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে পুনরায় ভারতে প্রবেশের উদ্দেশ্যে যশোর জেলার মনিরামপুর থানার রাজঘাট এলাকার দালাল শফি (৫০)-এর মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর থানার বেনীপুর গ্রামের স্থানীয় দালাল ফারুক হোসেন (৪৫) ও ইসরাফিল হোসেন (২৮)-এর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন।

দালাল চক্রটি ভিকটিমদেরকে ভারতে নিয়ে কার্টুন বানানোর ভালো কাজ আছে বলে জানান এবং কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় চুক্তি করেন। তবে শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘোরাফেরা করিয়ে দালাল ফারুক হোসেন ও ইসরাফিল হোসেন ভিকটিমদেরকে ভারতে প্রবেশ না করিয়ে তাদের নিকট থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও ভিকটিমদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কৌশলে হাতিয়ে নেয় এবং ভিকটিম রাকিব মোল্লাকে মারধর করে পালিয়ে যান। ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করেন।
পরবর্তীতে ভিকটিমগণ জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। রবিবার বিকালে জীবননগর থানায় প্রেস ব্রিফিং করে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জামাল আল নাসের। জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ জানান, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

