ঘূর্ণিঝড় ইয়াশ: বরিশালে প্রস্তুত ৪ হাজার ৯২০ আশ্রয়কেন্দ্র

আপডেট: May 25, 2021

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আপডেট নিউজ: পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াশ’ আঘাত হানার কথা রয়েছে বুধবার। এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে চলছে প্রস্তুতি কার্যক্রম। জেলাগুলোতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৯২০টি সরকারি-বেসরকারি আশ্রয়কেন্দ্র।

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল জানিয়েছেন, ৪ হাজার ৯২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬ লাখ ৪২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। সোমবার দুপুরে তিনি বিভাগের ৬ জেলার জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভা করে ঘূর্ণিঝড়ে জানমাল ও প্রাণীসম্পদের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সার্বিক প্রস্তুতির খোঁজ খবর নেন এবং দিক নির্দেশনা দেন। তিনি জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন- প্রয়োজনে উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের যে কোনো উপায়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।

সভায় জেলা প্রশাসকরা জানান, তাদের আওতাধীন সব আশ্রয়কেন্দ্র ইতিমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উঁচুভবন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কেন্দ্রের বরিশালের উপ-পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন মিয়া বলেন, তার দপ্তরের আওতাধীন বিভাগের ৬ জেলায় ৩৩ হাজার ৪০০ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছেন। ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত ৪ নম্বরে উঠলে স্বেচ্ছাসেবকরা উপকূলের জনপদে মাইকিং করে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতামূলক প্রচার চালানো শুরু করবেন।

বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, পটুয়াখালীতে ৯২৫টি, ভোলায় ১১০৯টি, পিরোজপুরে ৭১২টি, বরগুনায় ৬২৯টি, ঝালকাঠীতে ৪৭৪টি এবং বরিশালে ১০৭১টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে।

সাগরতীরের জেলা বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝড়ে আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে জেলায় ৬টি মেডিকেল টিম গঠন করার জন্য জেলা সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, ঘূর্ণিঝড়ে উপদ্রুত মানুষদের সহায়তার জন্য ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা এবং ৩৫৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ রাখা হয়েছে।

ভোলার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক ইলাহি চৌধুরী জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তিন লাখ ২৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার যাবতীয় প্রস্তুত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন। ভোলায় গঠন করা হয়েছে ৭৬টি মেডিকেল টিম। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২০০টি কমিউনিটি ক্লিনিক।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী সোমবার বিকেলে জেলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করে ৭ উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সভায় তিনি জানান, জেলায় ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য ২ কোটি ৫৪ হাজার টাকা ও প্রয়োজনীয় খাদ্যশষ্য বরাদ্ধ রাখা হয়েছে। গঠন করা হযেছে ৯৩টি মেডিকেল টিম।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দীন হায়দার জানান, রোববার রাতে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির ভার্চুয়াল সভা করে দশ উপজেলায় সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তার জন্য ৮৪ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৫ লাখ টাকা বরাদ্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতিবিষয়ক জরুরি সভায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ থেকে বাংলাদেশ অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত। তিনি জানান, ‘ইয়াস’ যে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’-এর মতো শক্তিশালী হচ্ছে না, তা প্রায় ৯০ শতাংশ নিশ্চিত।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network