আপডেট: September 6, 2026
অনলাইন ডেস্ক:: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক ইয়াবা সেবনকারীর দেওয়া ভয়াবহ আগুনে ১৬টি বসতঘর ও ৬টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, জমির দলিল এবং প্রবাসীদের পাসপোর্টসহ ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভস্মীভূত হয়েছে। এতে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাত ৪টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার ৪ নং সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বাসাবাড়ি বাজার সংলগ্ন আসাদ আলী বেপারী বাড়ি (ওরফে লেংড়ার বাড়ি)-তে এই মর্মন্তুদ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।সরেজমিনে গিয়ে ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, ওই বাড়ির মৃত রফিক উল্ল্যার ছেলে চিহ্নিত মাদকসেবী সোহেল ভোররাতে নিজ ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো বাড়ি ও সংলগ্ন দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা বাসিন্দারা প্রাণভয়ে এক কাপড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসলেও কোনো মালামাল বের করতে পারেননি। ফলে ১৬টি পরিবার এক রাতের ব্যবধানে একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়ে।
অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং অভিযুক্ত সোহেলকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।
খবর পেয়ে রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আব্দুর রাশেদ এবং রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায় গণপিটুনিতে মারাত্মক আহত সোহেলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করে।
অগ্নিকাণ্ডে সবকিছু হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী জুয়েল। তিনি বলেন, “আমরা তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলাম। হঠাৎ আগুনের প্রচণ্ড উত্তাপ আর চারপাশের চিৎকারে ঘুম ভাঙে। ঘর থেকে বের হয়ে দেখি চারদিকে শুধু আগুনের লেলিহান শিখা। সোহেল ইয়াবা খেয়ে প্রায়ই বাড়িতে গোলযোগ করত, কিন্তু আজ সে আমাদের পরনের কাপড়টুকু ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট রাখল না। আমাদের কষ্টার্জিত নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, জমির দলিল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমরা এখন এক কাপড়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।”
ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, “সোহেল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবায় চরমভাবে আসক্ত। মাদকের টাকার জন্য সে এলাকায় নানা অপকর্ম করে আসছিল। আজ তার এই ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডে ১৬টি পরিবার এক রাতে পথের ভিখারি হয়ে গেল। আমরা এই মাদকসেবীর দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আগুনে বেশ কয়েকটি বসতঘর ও দোকান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অভিযুক্ত সোহেল স্থানীয়দের গণপিটুনিতে মারাত্মক আহত হলে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে

