আপডেট: এপ্রিল ১২, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার টানা কূটনৈতিক আলোচনার পরও কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ হয়েছে কোনো চুক্তি বা যৌথ ঘোষণা ছাড়াই।তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটনের ‘অযৌক্তিক ও উচ্চাভিলাষী’ অবস্থানই আলোচনার ব্যর্থতার মূল কারণ। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই ব্যর্থতাকে ইরানের জন্য ‘বড় দুঃসংবাদ’ বলে মন্তব্য করেছেন। ফলে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি এবং কূটনীতিক আলী বাঘেরি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু।
কূটনৈতিক সূত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের অনড় অবস্থানই আলোচনাকে ব্যর্থ করেছে। কোনো পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় এমন কিছু কঠোর শর্ত তোলে, যা ইরানের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে বিবেচিত হয়। এর মধ্যে ছিল-
ইরান এসব শর্তকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছে। তেহরানের প্রতিনিধি দল স্পষ্ট জানায়, শান্তিপূর্ণ পরমাণু কার্যক্রম ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের বিদেশি চাপ তারা মেনে নেবে না।
ইরানি পক্ষের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার আড়ালে এমন লক্ষ্য হাসিল করতে চেয়েছে, যা তারা দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও চাপ দিয়েও অর্জন করতে পারেনি।
সমঝোতা ছাড়াই আলোচনার সমাপ্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ ত্যাগ করে। সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই এই ব্যর্থতা বেশি ক্ষতিকর। তার এই বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক ভবিষ্যতে নতুন চাপ বা নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
এই ব্যর্থ আলোচনার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে-
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদ বৈঠকের ব্যর্থতা শুধু কূটনৈতিক অচলাবস্থা নয়, বরং ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিতও দিচ্ছে। এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

