আপডেট: মার্চ ১৭, ২০২৬
তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:: বরগুনার তালতলী উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল দিবাগত রাত প্রায় পৌনে একটার দিকে উপকূলীয় এই অঞ্চলে আঘাত হানে শক্তিশালী ঝড়, যার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে পুরো জনজীবন।
ঝড়ের আঘাতে উপজেলার সব ইউনিয়নেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শত শত কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ায় সড়ক যোগাযোগে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয় । বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। তালতলী ফায়ার সার্ভিস গাছগুলো কেটে সড়ক উন্মমুক্ত করেন।
এদিকে ঝড়ের তাণ্ডবে নদীতে থাকা অন্তত ৫টি মাছধরা ট্রলার ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ডুবে যাওয়া ট্রলারগুলোর মালিকরা হলেন,তেতুলবাড়িয়া গোড়াপাড়া গ্রামের ছলেমান হাওলাদার (পিতা: সিদ্দিক হাওলাদার), নলবুনিয়া গ্রামের আনোয়ার হাওলাদার (পিতা: সেকান্দর হাওলাদার), তেতুলবাড়িয়া গ্রামের সেলিম চৌকিদার (পিতা: মোকসেদ আলী), তেতুলবাড়িয়া গ্রামের ইমাদুল হাওলাদার (পিতা: সোহরাব হাওলাদার) এবং নলবুনিয়া গোড়াপাড়া গ্রামের হিরোন হাওলাদার (পিতা: সেকান্দর হাওলাদার)।
জানা গেছে, নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারগুলো ডুবে যায়। পরে সেগুলো উদ্ধার করা হলেও এতে প্রায় আনুমানিক ৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঝড়ের প্রভাবে রাত থেকেই উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। মোবাইল চার্জ, পানীয় পানি সংগ্রহসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিরূপণ করতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক দরিদ্র পরিবার ঘর মেরামতের সামর্থ্য হারিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। গুরুতর ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহায়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

