আপডেট: September 20, 2025
অনলাইন ডেস্ক:: দেশব্যাপী আলোচিত বিএনপি নেতাকর্মীদের দাওয়াত না দেওয়ায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আয়োজন করা খাবার খেয়ে ও নষ্ট করে ফেলার ঘটনায় গুলিশাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য এবং ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি মাহবুব কাজীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে আমতলী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মামুন (ভিপি) ও সদস্য সচিব তুহিন মৃধা স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে এ নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশে আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ উপেক্ষা করে ঘটনার অন্তরালে ‘কলকাঠি নাড়ার’ অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আলী হোসেন এমন অভিযোগ করেছেন।জানা গেছে, ৪ সেপ্টেম্বর গুলিশাখালী ন.ম.ম. আমজাদিয়া আলিয়া মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। আমতলী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. ফজলুল হককে কমিটির সভাপতি করা হয়। ওই কমিটির প্রথম সভা ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। সভা উপলক্ষে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ৫০ জন আমন্ত্রিত অতিথির জন্য দুপুরের খাবারের আয়োজন করে।
অধ্যক্ষের অভিযোগ, কমিটি গঠনের আগে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন তাকে সভাপতি করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে সভাপতি না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ও ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি মাহবুব কাজী এবং ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন কাজীর নেতৃত্বে ৩০–৩৫ জন নেতাকর্মী পাঠিয়ে খাবার খেয়ে ও নষ্ট করে দেন। পরে তারা শিক্ষক, কর্মচারী ও অতিথিদের হুমকি দিয়ে চলে যান।ঘটনার পরে রিপন কাজী নিজের ফেসবুক আইডিতে মাদ্রাসার গ্রুপ ছবি পোস্ট করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক নিন্দা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক দিন পর বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থার দাবি জোরদার হয়।
ঘটনা ধামাচাপা দিতে বুধবার বিকেলে জসিম উদ্দিন ও ইউনিয়ন বিএনপির ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফারুক আকন মাদ্রাসায় শালিস বৈঠক বসেন। বৈঠকে অধ্যক্ষকে “মিলে মিশে থাকার” নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু অধ্যক্ষ আলী হোসেন বৈঠকের সিদ্ধান্ত না মেনে স্থান ত্যাগ করেন।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মিজানুর মাদবর বলেন, “দাওয়াত না দেওয়ার কারণ জানতে রিপন কাজী ফোন করেন। পরে মাহবুব কাজী, রিপন কাজী, মিজানুর, নাশির মৃধা, সুমন কাজী, সাইদুল মাদবর, সফিক মৃধা ও জলিল ঘরামীসহ ৩০–৩৫ জন এসে খাবার খেয়ে নষ্ট করে যান। এমনকি অতিথিরা যাতে অবশিষ্ট খাবার না খেতে পারেন, সেজন্য পাতিলে টিস্যু, উচ্ছিষ্ট ও নোংরা পানি ফেলে রাখা হয়।”মাহবুব কাজী বলেন, “আমি কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ পাইনি, শুধু মৌখিকভাবে শুনেছি।
অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আলী হোসেন বলেন, “জসিম উদ্দিন আমাকে সভাপতি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার সহযোগীরা এই ঘটনা ঘটান। শালিস বৈঠকে আমাকে ভিডিওতে ‘কিছু ঘটেনি’ বলতে বলেন, কিন্তু আমি রাজি হইনি।”
অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মাদ্রাসার সভাপতি ফজলুল হক ঝামেলা মেটাতে আমাকে অনুরোধ করেছিলেন, তাই গিয়েছিলাম। অভিযোগগুলো মিথ্যা।
আমতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা বলেন, “মাহবুব কাজী মাদ্রাসায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—সেই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাকে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে, নতুবা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, গুলিশাখালী ইউনিয়নে লিখিত কোনো কমিটি এখনো দেওয়া হয়নি। তবে বর্ধিত সভায় মাহবুব কাজী সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিনের শালিস বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশ উপেক্ষা করে তার এমন কাজ করা উচিত হয়নি।

